যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনের অন্যতম নেতৃস্থানীয় এক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের এজেন্টরা। গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্র মাহমুদ খলিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী।
তিনি গত বছর ক্যাম্পাসে হওয়া ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনের প্রধান সংগঠকদের একজন ছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। তার গ্রেপ্তার ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। রবিবার তার চারজন সহপাঠী জানিয়েছেন, শনিবার খলিলকে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন থেকে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি- ডিএইচএস) এজেন্টরা গ্রেপ্তার করেছে। -আল জাজিরা
তার সহপাঠী মরিয়ম আলওয়ান এবং আরও তিনজন শিক্ষার্থী, যারা নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ করেননি, তারা জানান, খলিলকে টার্গেট করা হচ্ছিল। কারণ তিনি মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলছিলেন এবং কলাম্বিয়ায় ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখপাত্র ছিলেন।
প্রবাসী শিক্ষার্থীদের টার্গেট করছে ট্রাম্প প্রশাসন?
ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে, তারা ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনে যুক্ত কিছু বিদেশি শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করবে। খলিলের গ্রেপ্তার সেই নীতির বাস্তবায়নের প্রথম দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনের ঢেউ ওঠে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছিল সেই আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে তারা কোনো শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করতে পারেন না। এদিকে ডিএইচএস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
শঙ্কিত সহপাঠীরা : খলিলের সহপাঠী মরিয়ম আলওয়ান বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিনিদের মানবিক মর্যাদা হরণ করছে। তিনি বলেন, আমার প্রিয় বন্ধু মাহমুদের জন্য আমি আতঙ্কিত। তিনি একজন বৈধভাবে বসবাসরত ব্যক্তি। আমি আরও আতঙ্কিত এই ভেবে যে, এটি কেবল শুরু। ছাত্রদের দাবি, খলিলের স্ত্রী একজন মার্কিন নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাকে কেন আটক করা হয়েছে, সেটি স্পষ্ট নয়। রবিবার পর্যন্ত তিনি পুলিশি হেফাজতে ছিলেন।
সূত্র : আল-জাজিরা, এপি, নিউইয়র্ক পোস্ট, সিবিএস নিউজ, জেরুজালেম পোস্ট