ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস জানিয়েছে, একসঙ্গে তারা সব ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দিতে প্রস্তুত। এক বিবৃতিতে তারা গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য তাদের দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরেছে। সংগঠনের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, আমরা এমন একটি দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত, যেখানে একসঙ্গে সব বন্দির বিনিময় হবে। তবে এটি তখনই সম্ভব, যখন একটি চূড়ান্ত চুক্তি হবে, যা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং গাজা থেকে ইসরায়েলের সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা দেবে। হামাসের এই প্রস্তাব এমন সময় এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধাপে ধাপে বন্দি মুক্তির পরিবর্তে একসঙ্গে মুক্তির পক্ষে মত দিয়েছেন। একই সঙ্গে গাজায় আটক থাকা ইসরায়েলি বন্দিদের পরিবারগুলোও তাদের স্বজনদের একবারেই মুক্তির দাবি জানিয়েছে। এদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বিতীয় পর্যায়ের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে নিজেদের প্রস্তুতি ঘোষণা করেছে হামাস। সংগঠনটির প্রধান আলোচক খলিল আল-হাইয়া মঙ্গলবার এক বক্তব্যে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ের যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী আগামী শনিবার ছয় ইসরায়েলি জিম্মি এবং চার বন্দির লাশ হস্তান্তর করা হবে।
হাইয়া বলেন, প্রথম পর্যায়ের যুদ্ধবিরতি চুক্তি যাতে পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়, সেজন্য মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বিশেষ করে কাতার ও মিসরের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে হামাস। এ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি মেনে চলার ব্যাপারে হামাস নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে জানিয়ে খলিল আল হাইয়া বলেন, ইহুদিবাদী ইসরায়েল চুক্তির শর্তগুলো ঠিকমতো পালন করছে না। বিশেষ করে তারা এখনো গাজাবাসীর ওপর হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে এবং উপত্যকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ প্রবেশ করার অনুমতি দিচ্ছে না। নিরস্ত্রীকরণ ও গাজা ছাড়ার শর্ত মানবে না হামাস : বিবৃতিতে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে সংগঠনটি সরিয়ে দেওয়ার ইসরায়েলি দাবি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, গাজা থেকে হামাসকে সরিয়ে দেওয়ার ইসরায়েলি শর্ত একটি হাস্যকর মানসিক চাপের কৌশল। প্রতিরোধ আন্দোলনকে নিরস্ত্র করা বা গাজা থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, গাজার ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত যে কোনো সিদ্ধান্ত জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে হবে, কোনো বাহ্যিক চাপের মাধ্যমে নয়। এদিকে হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী শনিবার বন্দি বিনিময়ের সময় তিনজনের পরিবর্তে ছয়জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে। হাজেম কাসেম বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে এবং চুক্তির শর্তাবলি বাস্তবায়নে আমাদের আন্তরিকতা প্রমাণের জন্য বন্দি মুক্তির সংখ্যা দ্বিগুণ করা হয়েছে। -আলজাজিরা