রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই আগামী সপ্তাহে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হতে যাচ্ছেন ইউরোপীয় নেতারা। কারণ তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ইউরোপকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হতে পারে। শনিবার মিউনিখ সম্মেলনে ট্রাম্পের ইউক্রেনবিষয়ক বিশেষ দূত কিথ কেলগের এমন ইঙ্গিত পাওয়ার পরপরই এ বৈঠক ডাকেন ইউরোপীয় নেতারা।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠেয় এ শীর্ষ সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি ইউরোপীয় নেতাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এ মাসের শেষে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনা করছেন। কিয়ার স্টারমারের লক্ষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে একত্রিত করা এবং ইউক্রেনের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ শান্তি নীতি নিশ্চিত করা।
পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি বলেছেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জরুরি ওই সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন। তবে ম্যাক্রোঁ এখনো সম্মেলনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেননি।
এএফপি জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের পথ খুঁজে পেতে কয়েক দিনের মধ্যে আলোচনায় বসতে চলেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কর্মকর্তারা, বৈঠক হবে সৌদি আরবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ হোয়াইট হাউসের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা থাকবেন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, ইউক্রেনকেও ওই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যদিও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তার দেশ এমন কোনো আমন্ত্রণ পায়নি।
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় ইউরোপকে না রাখার পক্ষে যুক্তি দেখাতে গিয়ে ট্রাম্পের দূত কিথ কেলগ বলেছিলেন, এর আগের আলোচনাগুলো ব্যর্থ হয়েছিল। কারণ, অনেক পক্ষ সেগুলোতে জড়িত ছিল। ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যস্থতায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে লড়াই বন্ধে ২০১৫ সালে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হয়েছিল, এটি মিনস্ক চুক্তি নামে পরিচিত। ব্যর্থ ওই চুক্তি ইউরোপকে এখনো তাড়া করে ফেরে।
ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ন্যাটোসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইউরোপের নেতাদের মতপার্থক্যের জের যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। কিয়ার স্টারমার জানেন, এ দূরত্ব মেটাতে যুক্তরাজ্যকে ভূমিকা রাখতে হবে।
আগামী সপ্তাহে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যুক্তরাষ্ট্র যাবেন স্টারমার। ওই সময় তিনি ট্রাম্পের কাছে ইউরোপের নেতাদের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্টারমার ওয়াশিংটন থেকে ফিরে আসার পর ইউরোপীয় নেতারা প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলেও জানা যাচ্ছে। কিয়ার স্টারমার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ঐক্য ধরে রাখা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য কাজ করবে।
স্টারমার আরও বলেন, আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এমন মুহূর্ত ২০-৩০ বছরে একবারই আসে, যেখানে আমাদের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় এবং আজ আমরা রাশিয়ার হুমকির মুখোমুখি। এটা পরিষ্কার ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ও রাশিয়া যে হুমকি দিচ্ছে, তা মোকাবিলা করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে গেলে ইউরোপকে ন্যাটোতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে হবে। -বিবিসি