গাজার বাসিন্দারা তাদের নিজস্ব ইতিহাস ও পরিচয়ের অংশ হিসেবে গাজাকে পুনর্র্নির্মাণ করার দৃঢ়সংকল্পে অটুট রয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মধ্যপ্রাচ্যের রিভিয়েরা’ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গাজাকে পুনর্গঠন করা হবে ফিলিস্তিনি জনগণেরই হাতে। গাজার বাসিন্দা ও রেস্তোরাঁ মালিক আসাদ আবু হাসেইরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এখানে যা কিছু ধ্বংস হয়েছে, তা পুনরায় নির্মাণ করা সম্ভব। ট্রাম্প চান গাজার ইতিহাস বদলে ফেলতে, কিন্তু আমরা আরব, আমাদের ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারবে না।’ আরেক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আবু হাসেইরা বলেন, ‘ট্রাম্প নতুন রেস্তোরাঁ তৈরি করতে চান, কিন্তু আমাদের রেস্তোরাঁ ও হোটেল তো আগে থেকেই ছিল! তাহলে সেগুলো ধ্বংস করা হলো?’ গাজা উপত্যকা এক সময় ইসরায়েলি পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় গন্তব্য ছিল। ২০০৭ সালে হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরও সাগরপাড়ে বহু রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে গড়ে উঠেছিল। তবে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে বহু স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে। ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুসারে, গাজার বাসিন্দাদের সরিয়ে সেখানে একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। তার জামাতা ইসরায়েলি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী জারেড কুশনারও এক সময় এমন প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে এ পরিকল্পনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে এবং এটিকে ‘জাতিগত নির্মূল’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
গাজার জনগণ এ পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দিয়েছেন, তারা তাদের ভিটেমাটি ছেড়ে যাবেন না। ট্রাম্পের পরিকল্পনা তাদের কাছে ১৯৪৮ সালের ‘নাকবা’ বা ‘মহা বিপর্যয়’ এর স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।
ওই সময় ইসরায়েল ৭ লাখ ফিলিস্তিনিকে তাদের পূর্ব পুরুষের ভূমি থেকে বিতাড়িত করেছিল।
গাজাবাসীরা দৃঢ় সংকল্প নিয়ে বলেছেন, ‘আমরা আমাদের ভূমিতে থাকব, ধ্বংসস্তূপ থেকে আবারও গাজাকে গড়ে তুলব। আমাদের পরিচয় কেউ মুছে ফেলতে পারবে না।’ -রয়টার্স