গাজার উত্তরাঞ্চলের বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা নিজ নিজ বাড়িতে ফেরার অনুমতি পাচ্ছে, ইসরায়েলের এমন বিবৃতির কথা শোনামাত্রই ক্রসিংগুলোতে দুই দিন ধরে অপেক্ষমাণ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উদ্বেগ ও আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। আলজাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েল গতকাল সকাল ৭টা থেকে গাজাবাসীদের হেঁটে উত্তরাঞ্চলে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে, এমন খবর পাওয়ার পর তীব্র শীত উপেক্ষা করেই স্থানীয় সময় ভোর ৫টার মধ্যে হাজার হাজার মানুষ প্রবেশপথগুলোর সামনে জড়ো হয়ে যায়। ১৫ মাস ধরে যে নৈরাশ্য তাদের ঘিরে রেখেছিল তা পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্গ্রীব ছিল তারা।
এ সময় সেখানে থাকা প্রত্যেকের মনোভাব পরিবর্তন হয়ে যায়। গত ১৫ মাসে তাদের আনন্দে এতটা উদ্বেলিত হতে দেখা যায়নি।
লোকজন এ মুহূর্তটি ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করছিল। তারা বলছিল, এটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের জন্য এটি একটি বিজয়ের দিন। এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস গাজার উত্তরাঞ্চলে বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের ফেরার ঘটনাটি ফিলিস্তিনিদের ‘একটি বিজয়’ এবং ইসরায়েলিদের পরাজয় বলে বর্ণনা করেছে। বিবৃতিতে তারা বলেছে, যেখান থেকে তাদের বাস্তুচ্যুত করা হয়েছিল সেখানে ফিলিস্তিনিদের ফেরা তাদের ভূমির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিশ্চিত করেছে এবং আরেকবার ‘দখলদারদের ব্যর্থতা’ প্রমাণ করেছে। বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুত করে দখলদাররা তাদের ‘আক্রমণাত্মক লক্ষ্য অর্জন করতে’ ও ফিলিস্তিনিদের অবিচল মনোভাব ‘ভাঙতে চেয়েছিল’, কিন্তু তারা সফল হয়নি। গাজার উত্তরাঞ্চলের বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা নিজ নিজ এলাকায় ফেরার মুহূর্তটি ‘স্বপ্ন সত্যি হওয়া’ বলে বর্ণনা করেছে। বহু মানুষ তাদের প্রিয়জনদের স্বাগত জানায়। তারা তাদের জন্য পানি ও খাবার নিয়ে আসে আর পরস্পর কোলাকুলি করতে থাকে। যেসব পরিবার তাদের জিনিসপত্র গাড়িতে অথবা গাধার পিঠে করে নিয়ে এসেছে তারা সকাল ৯টা থেকে সালাহুদ্দিন সড়ক ধরে গাজার উত্তরাঞ্চলে প্রবেশ করবে। ১৫ মাস ধরে চলা ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় গাজা সিটিসহ উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলোর ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অনেক বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিই এলাকায় ফিরে তাদের বাড়িটি হয়তো আর খুঁজে পাবে না। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও এ বেসামরিকরা দুর্ভোগ পোহাতে থাকবে। বেশির ভাগ বেসামরিক বাড়িই ধ্বংস হয়ে গেছে। অনেককে তাদের স্বজনদের মৃতদেহ বের করে আনার জন্য সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই খোঁড়াখুঁড়ি করতে হতে পারে। তার পরও গাজার ভূখে র উত্তরাঞ্চলের পরিবেশ আনন্দ ও উদ্দীপনায় ভরপুর হয়ে আছে। যুদ্ধের প্রায় শুরুর দিকে যে ১৫ লাখ ফিলিস্তিনিকে হুমকির মুখে জোর করে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছিল, তাদের নিজ নিজ বাড়ি ফেরা সব ফিলিস্তিনির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ইসরায়েলের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী, কট্টর ফিলিস্তিনবিরোধী রাজনীতিক ইতামার বেন ভির সমাজমাধ্যম এক্সে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের গাজার উত্তরাঞ্চলে ফেরাকে ‘হামাসের জয়’ বলে বর্ণনা করেছেন। বিবিসি ও আলজাজিরা