যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে দ্বিতীয় দফায় জিম্মি চার নারী সেনাকে মুক্তি দিয়েছে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সংগঠন হামাস। গতকাল ইসরায়েলও ২০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। এদিন স্থানীয় সময় ১১টার দিকে গাজার প্যালেস্টাইন স্কয়ারে ইসরায়েলি চার নারী জিম্মিকে নিয়ে আসা হয়। রেডক্রসের কাছে হস্তান্তরের আগে সেখানে এক মঞ্চেও তোলা হয় তাদের। এ সময় তাদের বেশ হাসিখুশি দেখা যায়। মঞ্চে তাদের পাশে হামাস ও ইসলামিক জিহাদের সশস্ত্র যোদ্ধাদেরও দেখা গেছে। পরে হামাস ও রেডক্রসের মধ্যে কাগজপত্র স্বাক্ষর হওয়ার পর রেডক্রসের গাড়ি ওই জিম্মিদের নিয়ে ইসরায়েলের পথে রওনা হয়। এই জিম্মি মুক্তির আগে হামাস গতকাল ছাড়া পাওয়া ২০০ ফিলিস্তিনি বন্দির নাম-পরিচয়ও প্রকাশ করে। এদের মধ্যে ৬৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি যেমন আছেন, তেমনি আছে ১৫ বছর বয়সীও। হামাস যে চার নারী সেনাকে ছেড়ে দিয়েছে, তারা হলেন- কারিনা আরিয়েভ, ডেনিয়েলা গিলবোয়া, নামা লেভি ও লিলি অ্যালবাগ। তাদের ইসরায়েল-গাজা সীমান্তের এক সামরিক ঘাঁটি থেকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর তুলে নিয়েছিল হামাস। সেদিনের হামলার প্রেক্ষিতে ইসরায়েল গাজায় সর্বাত্মক যুদ্ধে নামে। তাদের নির্বিচার হামলায় ১৫ মাসে প্রায় ৪৭ হাজার ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। পরে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় এ মাসে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে প্রথম তিন নারী জিম্মিকে ছাড়ে হামাস।
দ্বিতীয় দফায় চার জিম্মিকে ছেড়ে দেওয়ার সময় গতকাল সকাল থেকেই প্যালেস্টাইন স্কয়ারে উচ্ছ্বসিত হাজারো মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। একই সময়ে তেল আবিবেও জিম্মিদের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুরা ভিড় করেন। পরে এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের সেনারা জানান, তারা মুক্তিপ্রাপ্ত চার সেনাকে হাতে পেয়েছেন। ‘ইসরায়েলি ভূখন্ডে প্রবেশের পর তাদের প্রাথমিক মেডিকেল পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হবে,’ বলেছেন তারা। যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী ছয় সপ্তাহব্যাপী প্রথম ধাপে হামাস মোট ৩৩ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে। এর মধ্যে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের আংশিক প্রত্যাহার করা হবে এবং গাজায় মানবিক সাহায্য ঢুকবে। প্রথম ধাপ চলাকালেই দ্বিতীয় পর্যায়ের শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। -আলজাজিরা