ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের যে সংখ্যা প্রকাশ করা হচ্ছে, প্রকৃত অর্থে এর চেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার চিকিৎসা বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। তাতে বলা হয়, ইসরায়েলি হামলার প্রথম ৯ মাসে গাজায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা উপত্যকাটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানের চেয়ে প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি। এদিকে গতকাল গাজার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গতকাল পর্যন্ত অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৪৬ হাজার ছাড়িয়েছে। তাছাড়া আহত হয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৩৭৮ জন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। জবাবে গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েলে। শুরু থেকে এই যুদ্ধে কত ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। ল্যানসেটের গবেষণাটি করেছেন যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের (এলএসএইচটিএম) একদল গবেষক।
প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত গাজায় আনুমানিক ৬৪ হাজার ২৬০ জন নিহত হয়েছেন। তবে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে বলা হয়েছে, এ সময়ে নিহতের সংখ্যা ৩৭ হাজার ৮৭৭। গবেষকরা বলছেন, এর অর্থ হলো গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সহিংসতার কারণে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৪১ শতাংশ কম নথিবদ্ধ করেছে। গত অক্টোবর পর্যন্ত সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে মোট মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ তাদের বিশ্লেষণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়া, অপর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন এবং রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে মৃত্যুর হিসাব নেই। গবেষণায় বলা হয়েছে, অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গাজার জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ সহিংসতার কারণে মারা গেছে, যাদের মধ্যে ৫৯ শতাং নারী, শিশু এবং বয়স্ক। ল্যানসেটের এই গবেষণায় বিমান হামলা, বিস্ফোরণজনিত আঘাতে নিহত মানুষদের হিসাবই শুধু ধরা হয়েছে। অর্থাৎ গবেষণায় স্বাস্থ্যসেবা বা খাবারের অভাবে মৃত্যু কিংবা নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষকে ধরা হয়নি। নিখোঁজ এসব ব্যক্তি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গবেষক দলের প্রধান ও লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের মহামারি-বিশেষজ্ঞ জেইনা জামালউদ্দিন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘যেসব মৃত্যু আত্মীয়স্বজন অথবা মর্গ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, তথ্য বিশ্লেষণে আমরা কেবল সেগুলোই ব্যবহার করেছি।’ গাজার স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো ধ্বংসের কারণে মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানের এই অসংগতি বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। এএফপি, সিএনএন
নিহতের সংখ্যা ৪৬ হাজার ছাড়াল
নতুন বছরে অর্থাৎ ২০২৫ সালের প্রথম ৯ দিনে ইসরায়েলের হামলায় অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে অন্তত ৪৯০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। প্রতিদিনিই সেখানে প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে দখলদার বাহিনী। এতে লাফিয়ে বাড়ছে নিহতের সংখ্যা। হতাহতদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। গাজার পাশাপাশি পশ্চিমতীরেও নিয়মিত বিরতিতে অভিযান পরিচালানা করছে ইসরায়েলি বাহিনী। অব্যাহত রয়েছে ধরপাকড়