মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ইউনাইটেড লিগ অব আরাকানের (ইউএলএ) সামরিক শাখা আরাকার আর্মির জন্ম দেড় দশক আগে ২০০৯ সালের ১০ এপ্রিল। আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের দাবিতে তারা তাদের কার্যক্রম শুরু করে। সংগঠনটি এখন রাখাইন নৃগোষ্ঠীর (আরাকানি) বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের এই সংগঠন নিজেদের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে সামনে রেখে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আর প্রতিষ্ঠার মাত্র দেড় দশকের কম সময়ে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীকে পরাজিত করে রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তারা। তাই দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। শুধু তাই নয়, রাখাইনকে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণার সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে শুরু করেছে ভারত-চীন-আমেরিকার মতো দেশগুলো।
অথচ আরাকান আর্মির যে সফলতা তা তিন মাস আগেও কল্পনার বাইরে ছিল। অথচ এখন সংগঠনটির লক্ষ্য স্বাধীনতা অর্জন। স্বাধীন দেশ গড়া। আরাকান আর্মি ইতোমধ্যে মিয়ানমার ইউনিয়নের রাখাইন (সাবেক আরাকান) রাজ্যের ১৮টি শহরের মধ্যে ১৫টি দখল করেছে। তবে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান এখনো জান্তা বাহিনীর হাতে রয়েছে। এই স্থানগুলো হলো বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত সিতওয়ে বন্দর। কালাদান মাল্টি-মোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পের আওতায় ভারত এই বন্দরের পরিকাঠামো উন্নয়নে টাকা ঢেলেছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীনের সহায়তায় নির্মিত কিউকফিউ বন্দর এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে মংডু শহর। ২০২৪ সালের শেষ দিনে আরাকান আর্মি গওয়া শহর দখল করে। গত সপ্তাহে বিদ্রোহী আরাকান আর্মি এই শহরটি দখল করে নেয়। এই শহরের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে- এটি পশ্চিমা সামরিক বাহিনীর আঞ্চলিক কমান্ডের সদর দপ্তর।
মাত্র কয়েকদিন আগে আরাকান আর্মি সেনাবাহিনীর হাত থেকে মংডু শহর ছিনিয়ে নিয়েছিল এবং এর মাধ্যমে আরাকান আর্মি বাংলাদেশের সীমান্ত পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে। তবে রাখাইন রাজ্যের বেশির ভাগ অংশ ও কৌশলগত শহর পালেতোয়া দখল করার পর আরাকান আর্মি মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকাররে সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে।
ভারত ও চীনের প্রতি আস্থা : ইউনাইটেড লিগ অব আরাকান এক বিবৃতিতে অন্য দেশগুলোকেও বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। ইউনাইটেড লিগ অব আরাকানের এই বিবৃতি চীনা ভাষায়ও জারি করা হয়েছে। এতে ইউএলএ বলেছে যে, তারা রাখাইন রাজ্যে বিদেশি বিনিয়োগ অর্থাৎ ভারত ও চীনের বিনিয়োগ রক্ষা করবে। চীনের নেতৃত্বের প্রশংসা করে আরাকান আর্মি বলেছে যে, আরাকান জনগণের বিপ্লবী সরকার সব বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানায় এবং স্বীকৃতি দেয়, যা আরাকান অঞ্চলকে উপকৃত করবে এবং এর উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সহায়তা করবে। রাজনৈতিক স্বীকৃতির জন্য প্রচেষ্টা : রাজনৈতিক স্বীকৃতির জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও এটা এখনো স্পষ্ট নয় যে, ইউনাইটেড লিগ অব আরাকান ও আরাকান আর্মি সিতওয়ে এবং কিউকফিউ দখলের জন্য সরাসরি আক্রমণ শুরু করবে না কি চীনে প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করবে। মিয়ানমার সরকারের কাছ থেকে স্বাধীনতার লড়াইয়ে আরও দুটি সংগঠন জড়িত, এই তিনটিকে একসঙ্গে বলা হয় ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’। আরাকান আর্মি ছাড়াও তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) এবং মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিডিএ) ও এখন মিয়ানমারের সামরিক জান্তার সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। -ডয়চে ভেলে, দ্য ডেপলোমেট