দুপুর সাড়ে ১২টার কিছুক্ষণ পর। গত এপ্রিলে দুই মুখোশধারী বন্দুকধারী লাহোরে একটি শ্রমজীবীর বাড়িতে ঢুকে। তাম্বা নামে পরিচিত একজন ৪৮ বছর বয়সি ব্যক্তিকে শনাক্ত করে এবং তার বুকে এবং পায়ে খুব কাছ থেকে তিনটি গুলি ছোড়ে। এরপর আততায়ীরা একটি হোন্ডা মোটরবাইকে করে রওনা দেয় এবং তাম্বাকে দ্বিতীয় তলায় রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। পাকিস্তানি পুলিশের প্রতিবেদনে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে।
তাম্বা, যার আসল নাম ছিল আমির সরফরাজ। তার অনেক পুরনো শত্রু ছিল। এই গ্যাংস্টার ২০১১ সালে লাহোরের একটি কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অবস্থায় একজন ভারতীয় গোয়েন্দাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। তবে তিনি পরে মুক্তি পান এবং অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ধারণা করে, পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) কারাগারের ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য তাম্বাকে নিয়োগ করেছিল। অবশেষে ১৩ বছর পর তাম্বাকে হত্যার মাধ্যমে ভারতের প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হয়। শুধু তাম্বা নয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ যুদ্ধের পরিবর্তে গুপ্তহত্যার কৌশল নিয়েছে ভারত। এমন অন্তত আধা ডজন হত্যাকাণ্ডের তথ্য বিশ্লেষণ করে বৃহস্পতিবার একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (র) পরিকল্পিত এসব গুপ্তহত্যাকে ‘ছায়াযুদ্ধ’ বলে উল্লেখ করেছেন পাকিস্তানের কর্মকর্তারা।
মোদি জমানায় বেড়েছে গুপ্তহত্যা : ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পুনর্র্নিবাচিত হওয়ার দুই বছর পর ২০২১ সাল থেকে এ ধরনের গুপ্তহত্যা বেড়ে গেছে। ভারত ২০১৯ সালে একটি কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন পাস করার পর দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনোনীত সন্ত্রাসীদের একটি তালিকা প্রকাশ করা শুরু করে। তালিকাটি মাঝে মধ্যেই হালনাগাদ করা হয়। ওয়াশিংটন পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখেছে, বর্তমানে ভারতের ওই তালিকায় থাকা ৫৮ জনের মধ্যে ১১ জনকেই ২০২১ সাল পর থেকে হত্যা অথবা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।