ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসার জন্য আবাসন সুবিধা দিতে দেশে প্রথমবারের মতো কেয়ার ভিলেজ উন্মোচন করল বাংলাদেশ ক্যানসার এইড ট্রাস্ট (ব্যানক্যাট)। গত শনিবার দ্য ওয়েস্টিন ঢাকায় ব্যানক্যাট এবং ভ্যালর অব বাংলাদেশ প্রথম-এর ‘ফিলানথ্রফি কনক্লেভ ২০২৫-ফস্টারিং এ কেয়ার ইকোনমি’ শীর্ষক আয়োজনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এর সহযোগী হিসেবে রয়েছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, সাজিদা ফাউন্ডেশন, সেভেন রিংস সিমেন্ট এবং আবদুর রহিম মেমোরিয়াল ট্রাস্ট এবং ভ্যালর অব বাংলাদেশ।
দেশের প্রথম ২৫০ শয্যার ক্যান্সার কেয়ার ভিলেজ ‘আলোক বসতি’ একটি সুপরিকল্পিত হসপিস ও প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেন্টার, যেখানে রোগীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, আত্মিক যত্ন, এবং ক্যান্সার স্ক্রিনিং সুবিধা থাকবে।
পরিবেশবান্ধব এই প্রকল্পটিতে সৌর বিদ্যুৎ এবং জৈব কৃষির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। পাঁচ ধাপে ৩৭ মাসে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি বছরে ৫,০০০+ রোগীকে সেবা দেবে, যা বাংলাদেশের ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
এতে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ, ব্যানক্যাটের নির্বাহী পরিচালক নাজমুস আহমেদ আলবাব, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক-এর এমডি এবং সিইও মাহবুবুর রহমান, সাজিদা ফাউন্ডেশনের সিইউ জাহিদা ফিজা কবির, ফ্রেন্ডশিপ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা।
শারমীন এস মুরশিদ বলেন, “কেয়ার ইকোনমি শুধু সরকারের দায়িত্ব না, এতে সবার মিলিত চেষ্টা দরকার। যেখানে কমিউনিটির সহায়তা, দক্ষ মানুষ তৈরি আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহানুভূতি একসঙ্গে কাজ করে সত্যিকারের পরিবর্তন আনে।”
জাহিদা ফিজ্জা কবির বলেন, “একটি টেকসই পরিচর্যা অর্থনীতি অবৈতনিক পরিচর্যাকে ন্যায্য মজুরি এবং সহায়ক নীতির মাধ্যমে বেতনভুক্ত কাজে রূপান্তরিত করে এবং সঠিক মূল্যায়নে সহায়তা করে।”
নাজমুস আহমেদ আলবাব বলেন, “আলোক বসতি ক্যান্সার রোগীদের জন্য আশার প্রতীক, যেখানে সবার জন্য সাশ্রয়ী ও সম্মানজনক কেয়ার নিশ্চিত করা হবে।”
ব্যানক্যাট ক্যান্সার প্রতিরোধ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও মানসিক সেবা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশে ক্যান্সার মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে সারা দেশব্যাপী ক্যান্সার সচেতনতা, সুবিধাবঞ্চিত ক্যান্সার রোগীদের জন্য সমন্বিত সেবা প্রদান, ক্যান্সার রোগীদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা।
এই অনুষ্ঠানে সরকার, অলাভজনক খাত, ব্যবসা এবং নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি একত্রিত হয়ে জনহিতৈষী কার্যক্রম, পরিচর্যা অর্থনীতি এবং বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে তাদের সম্মিলিত প্রভাবের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। কনক্লেভে ‘জনকল্যাণকর কার্যক্রম গ্রহণ’ শীর্ষক একটি প্রাণবন্ত প্যানেল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়, এতে বিশেষজ্ঞরা তাদের সেরা অভিজ্ঞতাগুলো বিনিময় করেন এবং দাতব্য অনুদানের উদ্ভাবনী পদ্ধতি অন্বেষণ করেন।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম