ঢালিউডের কিংবদন্তি নায়িকা শাবানা থেকে শুরু করে নায়ক শাকিব খান পর্যন্ত একের পর এক তারকা তাদের স্বপ্নের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন। বর্তমানে অভিনেত্রী মৌসুমীও প্রায় দেড় বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। জল্পনা-কল্পনা আছে সেখানে তিনি গ্রিন কার্ড পেয়ে থিতু হওয়ার দিন গুনছেন। এভাবে অপেক্ষায় আছেন আরও অনেক তারকা। তাদের কেউ কেউ শীতের পাখি হয়ে দেশে ফেরেন, কিছুদিন বেড়ান- ঘোরেন, সুযোগ হলে কাজও করেন। অভিনয়জগতের অনেক তারকাই যখন নিজ নিজ ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে, তখনই কেউ কেউ পাড়ি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। সিনেমায় দুর্দান্ত অভিনয় করে যারা দর্শক পর্দায় ধরে রাখতেন, ভক্তদের মন জয় করে নিতেন, সেসব জনপ্রিয় তারকার অনেকেই ভক্তদের হৃদয় চূর্ণবিচূর্ণ করে এখন স্থায়ীভাবে আবাস গড়েছেন নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নামি শহরে। শুটিং ফ্লোরে ব্যস্ত সময় কাটানো সেই তারকাদের কয়েকজন এখন পুরোদস্তুর গৃহিণী। কেউবা জীবনযাপনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ৯টা-৫টা চাকরি করছেন। রেস্টুরেন্টে কাজ কিংবা ট্যাক্সি ক্যাবও চালাচ্ছেন। শুধু ঢাকাই চলচ্চিত্রের তারকারাই নন, এ তালিকায় আছেন এদেশের ছোটপর্দার অভিনয়শিল্পী, সংগীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পীসহ শোবিজের নানা অঙ্গনের মানুষ। একের পর এক তারকার প্রবাসী হওয়ার ঘটনায় বিস্মিত ভক্ত, শুভাকাক্সক্ষী, চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট সবাই। প্রশ্ন হলো তারকারা কেন পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে? দেশ ও দেশের মানুষ তো তাদের অনেক ভালোবাসা দিয়েছে। ভক্ত-দর্শকরা তো তাদের একেকজনকে নিজেদের আইডল মনে করেন। অনেকে তো তারকাদের ব্যক্তিজীবনকে অনুসরণ করে চলাফেরা করতে গর্ববোধ করেন। কিন্তু তাদের কী এমন অভাব-অভিযোগ যে সারা জীবনের জন্য স্বদেশ ও ভক্তদের ছেড়ে পরবাসে পাড়ি জমাতে হবে? বিভিন্ন মহল থেকে আরও প্রশ্ন ওঠে, এসব তারকা হঠাৎ করেই জনপ্রিয় হননি। তাদের প্রতি প্রযোজক-পরিবেশক থেকে শুরু করে সহকর্মীদেরও রয়েছে অনেক অবদান। কিন্তু যারা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসী হচ্ছেন, তাদের মধ্যে অল্পসংখ্যক তারকা হয়তো নিম্নমুখী ক্যারিয়ারের কারণে যাচ্ছেন কিন্তু উজ্জ্বল ও সম্ভাবনাময়ী ক্যারিয়ারকে পেছনে ফেলে যারা দেশান্তরী হচ্ছেন, তাদের কি দেশের প্রতি কোনো দায় নেই? তারকাদের বিদেশে যাওয়ার এই স্রোতে দেশের শিল্পাঙ্গনের কতটা ক্ষতি হচ্ছে, সে প্রশ্নও এখন প্রাসঙ্গিক।
মিডিয়াপাড়া সূত্রে জানা গেছে, শোবিজ তারকাদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার পেছনে নানা কারণ বিদ্যমান। ক্যারিয়ারের সফলতা থাকলেও কেউ কেউ ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের কারণে, কেউবা সপরিবারে উন্নত জীবনের সন্ধানে, অনেকে বিনোদনজগতের নানা গ্যাঁড়াকলে পড়ে খেই হারিয়ে ফেলে, কেউ কেউ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আবার অনেকে সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য দেশান্তরী হয়েছেন। শুধু শাবানা কিংবা শাকিব নন, যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন এমনকি অন্যদেশেও থিতু হয়েছেন এমন তারকাদের মধ্যে আরও রয়েছেন টনি ডায়েস ও প্রিয়া ডায়েস, রিচি সোলায়মান, তৌকির-বিপাশা, জামালউদ্দিন, হাসান ইমাম, লায়লা হাসান, বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভীন, তাহসান খান, দিনাত জাহান মুন্নী, এসআই টুটুল, রথীন্দ্রনাথ রায়, রোমানা, মোনালিসা, তমালিকা কর্মকার, ইপসিতা শবনম শ্রাবন্তী, বন্যা মির্জা, রাইসুল ইসলাম, কাজী মারুফ, ইমন সাহা, বিপ্লব, মিলা হোসেন, শাবনুর, হিল্লোল-নওশীন প্রমুখ। ২০০০ সালে আমেরিকায় স্থায়ী হন অভিনেত্রী শাবানা। সেখানে আগেই তাঁর সন্তানেরা পড়াশোনা করতে চলে গিয়েছিলেন। সন্তানদের দেখাশোনা করতেই মূলত শাবানার প্রবাসজীবন বেছে নেওয়া বলে জানান তিনি। সপরিবারে নিউজার্সিতে থাকেন তিনি। শাবানার স্বামী ওয়াহিদ সাদিক যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ২০২১ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে যোগদান করেন শাকিব খান। এর পরই জানা যায়, শাকিব খান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব চেয়ে আবেদন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগের জন্য নিয়ম মেনে সেখানে প্রায় নয় মাস অবস্থান করেন। সেখান থেকেই ‘রাজকুমার’ নামের নতুন সিনেমার ঘোষণা দেন তিনি। পরে গ্রিন কার্ড পেয়েছেন এই অভিনেতা। এরপর দেশে ফেরেন তিনি। এখন তিনি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র আসা-যাওয়ার মধ্যে আছেন। শোবিজ পাড়ায় এমনও গুঞ্জন রয়েছে যে, মিডিয়ায় ক্রমেই গুরুত্ব কমে গেলে অবহেলা ও নানা কারণে অনেক তারকার মনস্তত্ত্বের পরিবর্তন ঘটে। এতে মনঃকষ্টে তারা দেশ ছাড়েন। অনেকে আবার শখের বশেই প্রবাস জীবন বেছে নেন।