স্বামী-স্ত্রী দুজনই শোবিজ অঙ্গনের বাসিন্দা, কিংবা একজন তারকা অন্যজন সাধারণ মানুষ। তাদের রিয়েল এবং রিল লাইফ কেমন ছিল বা আছে। এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে কয়েকজন তারকার অন্দর মহলের নানা খবর। তা-ই তুলে ধরেছেন- আলাউদ্দীন মাজিদ
রাজ্জাক-লক্ষ্মী
নায়করাজ রাজ্জাক পারিবারিকভাবেই ষাটের দশকে বিয়ে করেছিলেন খায়রুন্নেসা লক্ষ্মীকে। নায়করাজ তাঁর জীবদ্দশায় একাধিকবার বলেছিলেন, তাঁর সংসার এবং কাজের প্রতি স্ত্রী লক্ষ্মীর অনাবিল সহযোগিতার ফলেই তিনি নায়করাজ রাজ্জাক হয়ে উঠতে পেরেছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন, অনেকে আমার অনুপস্থিতিতে আমার বাসায় এসে অথবা ফোনে লক্ষ্মীকে বলত, আপনার স্বামী অমুক নায়িকার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে। এর জবাবে লক্ষ্মী তাদের বলত ‘ও যখন বাসায় থাকে তখন আমার, আর বাইরে গেলে সবার।’ রাজ্জাক বলেছিলেন, আমার প্রতি লক্ষ্মীর এ আস্থা আমাদের সুখের সংসার গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল।
শাকিব-অপু
২০০৬ সালে জুটি বেঁধে ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন তাঁরা। এরপর একসঙ্গে আরও কাজ করতে গিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাদের। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই পরস্পরের প্রতি নানা সন্দেহ তাদের সম্পর্ককে হালকা করে ফেলে। একসময় নায়িকা বুবলীর সঙ্গে শাকিবের কাজ করতে বাধা দিলে ভেঙে যায় তাদের সংসার।
সৈয়দ হাসান ইমাম-লায়লা হাসান
গুণী অভিনেতা, আবৃত্তিকার সৈয়দ হাসান ইমাম তখন চলচ্চিত্রের নায়ক। রবীন্দ্রশতবর্ষ উপলক্ষে ১৯৬১ সালে তিনটি নাটকে অভিনয় করেছিলেন তিনি। সেখানেই তাঁকে দেখেন লায়লা হাসান। পরবর্তীতে তাঁরা ভয়েস অব আমেরিকায় নাটকও করেন। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে ধীরে ধীরে ভালো লাগা এবং বিয়ে হয় ১৯৬৫ সালে। তাঁদের কোল আলো করে এসেছে তিন সন্তান। বিয়ের এত বছর পরও তাদের মধ্যে ভালোবাসার কমতি নেই। নিজেদের আঙিনায় ব্যস্ততার পাশাপাশি বিশ্বস্ততায় ভর করে যাপন করছেন সংসারজীবন।
মৌসুমী-ওমর সানী
১৯৯৩ সালে মৌসুমী-সালমান শাহ জুটি ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মাধ্যমে সারা দেশে সাড়া ফেলে। পরবর্তীতে মৌসুমীর সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেন ওমর সানী। এরই মাঝে দুই তরুণ তারকার প্রেম জমে উঠল। ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকতেই ১৯৯৫ সালের ২ আগস্ট বিয়ে করেন ওমর সানী ও মৌসুমী। ওমর সানীর কথা অনুযায়ী- ‘বিয়ের পরও আগের মতোই কাজ করে গেছি। কারও কাজের ক্ষেত্রে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াইনি।’
তৌকীর আহমেদ-বিপাশা হায়াত
নব্বই দশকে টেলিভিশন নাটকের শীর্ষ জুটির অন্যতম ছিলেন তৌকীর আহমেদ ও বিপাশা হায়াত। নাটক করতে গিয়ে তাঁদের প্রেম। ১৯৯৯ সালের ২০ জুলাই বিয়ে করেন তাঁরা। তৌকীর আহমেদের দাবি, আমরা সর্বদা একে অন্যের কাজের প্রতি সম্মান দেখিয়েছি। সংসার দুই সন্তানের আগমনে পূর্ণতা পেয়েছে।
রফিকুল আলম-আবিদা সুলতানা
সংগীতজুটি রফিকুল আলম ও আবিদা সুলতানা। তাঁরাও প্রেম করে বিয়ে করেছেন। বাংলাদেশ বেতারে তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেন লাকী আখন্দ। গান গাইতে গাইতে তাঁদের প্রেম জমে ওঠে। ১৯৭৫ সালে বিয়ে করেন এ দুই সংগীতশিল্পী। সেই থেকে ভালোবাসার জয়গান গেয়ে চলেছেন দুজন। রফিকুল আলমের কথায়- একে অপরের কাজের ক্ষেত্রে সেক্রিফাইস করে চললে শোবিজ জগৎ বা সংসারজীবন সুখের হবেই।
জাহিদ হাসান-মৌ
নব্বই দশকে শোবিজের শীর্ষ দুই মুখ জাহিদ হাসান ও সাদিয়া ইসলাম মৌ। একসময় তাঁরা ভালোবেসে বিয়ে করেন। মৌ বলেন, আমাদের ভালোবাসা এখনো অটুট। দুই সন্তানকে ঘিরে সংসার। শোবিজে নিজেদের মতো করে ব্যস্ত আছি দুজনই।
নাঈম-শাবনাজ
নব্বই দশকের শুরুতে ঢালিউডে জুটি হিসেবে আবির্ভাব ঘটে নাঈম ও শাবনাজের। প্রয়াত নির্মাতা এহতেশাম পরিচালিত ‘চাঁদনী’ ছবিটি ঝড় তোলে সারা দেশে। একের পর এক ছবিতে জুটিবদ্ধ হয়ে কাজ করতে গিয়ে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সেটি পূর্ণতা পায় ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর। নাঈম বলেন, বিয়ের পর আমরা নিজেদের মতো করে যার যার কাজ করেছি, সঙ্গে সহযোগিতাও ছিল। তাই এখনো আমরা সুখী দম্পতি।
রামেন্দু মজুমদার-ফেরদৌসী মজুমদার
একুশে পদকপ্রাপ্ত দুই গুণীজন রামেন্দু মজুমদার ও ফেরদৌসী মজুমদার। ১৯৭০ সালের ১৪ মার্চ ভালোবেসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা। বিয়ের পর যার যার মতো কাজ করে গেছেন এ সুখী দম্পতি। দুজনের ৫৫ বছরের সুখী বিবাহিত জীবনে আছে একমাত্র সন্তান ত্রপা মজুমদার।
মোশাররফ করিম-জুঁই
ভালোবেসে ঘর বেঁধে সুখে সংসার করছেন অভিনেতা মোশাররফ করিম ও অভিনেত্রী জুঁই করিম। ২০০৪ সালের ৭ অক্টোবর গাঁটছড়া বাঁধেন তাঁরা। তাঁদের ২১ বছরের সুখের সংসারে পূর্ণতা দিয়েছে একটি ছেলে। জুঁইয়ের কথায়- সবসময় পরস্পরের কাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আছি বলেই বাস্তব ও শোবিজ জীবনে আমরা সুখী।
রিয়াজ-তিনা
‘হৃদয়ের কথা’র একটি গানের নাচের দৃশ্যে কাজ করতে গিয়ে প্রথম পরিচয় হয় রিয়াজ-তিনার। তারপর দুজনার প্রেম। ২০০৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা। তাঁদের সংসারে রয়েছে একটি ছেলে। রিয়াজ বলেন, তিনা কখনো আমার অভিনয় নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেনি, উপরন্তু আমাকে সহযোগিতা করেছে।