জনপ্রিয় তারকা সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদ। তিনি দেশের অন্যতম একজন সংগীত পরিচালকও। দুই দশক ধরে যার গানের দোলাচলে সংগীতপ্রেমীরা হয়েছেন দিশাহারা। নতুন বছরে কিছু নতুন গান নিয়ে হাজির হচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে কথোপকথনে- পান্থ আফজাল
নতুন বছরের শুভেচ্ছা! সংগীতের দিক থেকে আগের বছরগুলো কেমন ছিল?
আপনাকেও নতুন বছরের শুভেচ্ছা, হ্যাপি নিউ ইয়ার। ভালোই ছিল। বিশেষ করে সিনেমার গানগুলোই মাতিয়ে রেখেছিল শ্রোতাদের। এ ছাড়াও বেশ কিছু ওয়েব ফিল্মের গান ও একক-দ্বৈত গান ভালো হয়েছে। আমি মনে করি, এখন তো সিনেমার গানে নতুন জাগরণ শুরু হয়েছে। আশা করছি, সামনেও ভালো কিছু হবে।
সাধারণত অন্যের সুরে গান কমই করেছেন...
এর আগে যা গেয়েছি, সবই নিজের কম্পোজিশনে। এরপর মুজার তৈরি ‘বেণি খুলে’ গানটি দিয়ে অন্যদের সঙ্গে আমার কণ্ঠ শেয়ারের কাজটি শুরু করি। তারপর তো ইমরানের সঙ্গে। ইচ্ছা ছিল অন্যের কম্পোজিশনে গাওয়ার। তাই করেছি কিছু।
গায়ক নাকি মিউজিক কম্পোজার হিসেবে কাজ করতে বেশি পছন্দের?
গায়ক হিসেবে আমার একটা আলাদা দর্শক তৈরি হলেও মিউজিক কম্পোজার হিসেবেই বেশি আনন্দ পাই। তবে ভক্তদের দাবি থাকে তারা আমার কণ্ঠে গান শুনবেন। একজন সংগীত-পরিচালক হিসেবে প্রচুর জিঙ্গেলে কাজ করেছি। সেগুলোর বেশির ভাগই অন্য শিল্পীদের গাওয়া।
অন্য শিল্পীদের সঙ্গে অনেক জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন...
ন্যান্সির সঙ্গে আমি অনেক দ্বৈত গান করেছি, যেগুলো শ্রোতারা পছন্দ করেছেন। তবে তার বেশির ভাগই প্রথমদিককার অ্যালবাম ও সিনেমার গান। ন্যান্সির সঙ্গে একটা কেমিস্ট্রি আছে আমার। যে সুরগুলো আমার কণ্ঠে মানায় না, যার কণ্ঠে মানাবে বলে মনে করি তাকে দিয়ে গানটি করাই। এখন তো নতুন শিল্পীদের সঙ্গেও অনেক গান করছি।
ফোক গানগুলো একটু আলাদাভাবে রিমেক করেছেন। এ চিন্তা কীভাবে মাথায় এসেছিল?
এ বিষয়টি আমার মাথায় আসে লন্ডন যাওয়ার কারণে। যখন লন্ডন যাই তখন ইউটিউব, ফেসবুক, জিমেইল কিছুই ছিল না। ইন্টারনেট বলতে আমরা শুধু মেইলটাকেই বুঝতাম। লন্ডনে দেখা বাঙালিদের মধ্যে বেশির ভাগই সিলেটের। তাদের মুখেই স্থানীয় ফোক গানগুলো শুনি। অন্তর থেকে এমনভাবে গানগুলো করে এবং সংস্কৃতিকে তুলে ধরে, যা সত্যিই খুব ভালো লেগে যায়। এসব দেখেই ফোক গানের বিষয়টি আমার মাথায় আসে।
গান এখন ফেসবুক-ইউটিউবের মাধ্যমে শুনছে, দেখছে। এ বিষয়ে কী বলবেন?
আন্তর্জাতিকভাবে ইউটিউবের পাশাপাশি শুধু গান শোনার জন্য কিন্তু অনেক প্ল্যাটফরম রয়েছে। যেমন সাউন্ড ক্লাউড, অ্যাপল মিউজিক, আই মিউজিক ইত্যাদি। আমাদের দেশে বিস্তরভাবে এগুলো এখনো চালু হয়নি। তবে এগুলো নিয়ে কাজ চলছে। ফোন কোম্পানিগুলোর যে অ্যাপ ডেভেলপাররা রয়েছেন, তারা এগুলো নিয়ে কাজ করছেন। এগুলো যখন মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে, তখন গানের জন্য একটি ভালো দিক হবে। গান হলো মূলত শোনার বিষয়।
প্রেমিক হিসেবে কীভাবে দেখেন?
প্রেমের সম্পর্ক হঠাৎ করেই হয়ে যায়। সম্পর্কে অনেক বেশি আশা-কল্পনা লুকিয়ে থাকে। প্রথম দিন থেকেই যে এগুলো বুঝি এমন কিন্তু না। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা হয়। সবকিছু জানার পর প্রেম করতে গেছি তা কিন্তু না, মেয়েটিও কিন্তু তাই। একটি ছেলে-মেয়ের প্রেম শুরু হওয়া মানে একটি বই পড়তে শুরু করা। একের পর এক নতুন অধ্যায় আসবে, কিন্তু তারা জানে না যে সামনে কী আছে। তা তো তাদের দোষ না। দোষ কখন হবে যখন বইটি পড়ে শেষ করার পরও আবার ভুল করি। এর জন্যই দেখা গেছে দিনের শেষে সম্পর্ক আর কাজ করে না।