দেশের জনপ্রিয় সংগীত তারকা দিলশাদ নাহার কনা। সিনেমায় প্লেব্যাক, নাটকের গান, অডিও গান রেকর্ডিং, ভয়েজ ওভার ও বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেলে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন- পান্থ আফজাল
কেমন চলছে আপনার দিনকাল?
আলহামদুলিল্লাহ ভালো যাচ্ছে। কাজের মধ্যেই আছি। শো, গানের কাজ, রেকর্ডিং আর ভিডিও-সবকিছু মিলিয়ে ভালোই যাচ্ছে। আসলে ব্যস্ততার মধ্যে থাকলে ভালো থাকি। ব্যস্ত আছি, তাই ভালো আছি।
উৎসবে কনার গান...
ছোটবেলা থেকেই আমি প্লেব্যাক সিঙ্গার হতে চেয়েছি। তো দেখা যাচ্ছে যে, ঈদে বা যে কোনো উৎসবে যদি পাঁচটি মুভি থাকে তাহলে তিনটিতেই আমার গান থাকে। আমি বলব অ্যাজ অ্যা শিল্পী হিসেবে আমার যে চাওয়াটা ছিল প্লেব্যাক শিল্পী হওয়ার, আমি আলহামদুলিল্লাহ সেই জায়গাতেই আছি।
দুষ্টু কোকিল কি এবার প্রেমের দোকানদার?
হাহাহা... তা নয়। ওয়েব সিরিজ ‘ব্ল্যাক মানি’র জন্য ‘প্রেমের দোকানদার’ গানটি গেয়েছি। দুষ্টু কোকিলের মতো এ গানটিও শ্রোতারা লুফে নিয়েছেন।
গানগুলো কী কারণে শ্রোতাপ্রিয়?
সর্বদা শ্রোতাদের ভালো লাগার কথা মাথায় রেখেই কিন্তু প্রতিটি গান নির্বাচন করি। গানের কথা ও সুর নিয়ে ভীষণ ভাবি। এটাই হয়তো সেরকম ছিল।
শোতে কি মৌলিক গানই বেশি করে থাকেন?
হুমম...নিজের মৌলিক গানই বেশি গেয়ে থাকি। এটা আমার সৌভাগ্য যে আমার নিজেরই বেশকিছু জনপ্রিয় মৌলিক গান আছে, যা শুনতেই শ্রোতা-দর্শকরা তাদের আয়োজনে আমাকে নিমন্ত্রণ করেন। শিল্পী হিসেবে এটাই আমার অনেক বড় প্রাপ্তি যে আমি নিজের গান দিয়েই শ্রোতা দর্শককে মুগ্ধ করতে পারছি।
গান নির্বাচন কীভাবে করে থাকেন?
আমি আমার মতো ও শ্রোতাদের চাহিদা চিন্তা করে গান করি। খুব যে বেশি মৌলিক গান করি স্টেজে, তাও নয়। যাই করি ঠিকঠাক করতে চাই।
বিজ্ঞাপনের ভয়েজ ওভার বা জিঙ্গেল সেক্টরের অবস্থাটা এখন কেমন?
জিঙ্গেল তো আমি ছোটবেলা থেকেই করি। যখন সুমনা আপারা ভয়েজ দিতেন, আমি তখন রাফ জিঙ্গেল করতাম অনেক বছর। যদিও ইদানীং জিঙ্গেলটা একটু কম হচ্ছে। কারণ জিঙ্গেল বেইজড বিজ্ঞাপনটা একটু কম। সো দ্যাট ভয়েজ ওভারের কাজটা একটু বেশি হচ্ছে। আমি বলব যে, জিঙ্গেলটা একদিকে একটু টাফ। গান তো পুরোটা থাকে আর জিঙ্গেলের মধ্যে কিছু প্রোডাক্ট ইনডোরসমেন্ট থাকে। ওখানে এক্সপ্রেশনগুলো ডিফারেন্ট থাকে। আর দর্শকরা ভয়েজ এক্সসেপ্ট করেছে কি না তাও কিন্তু একটা বিষয়। যেমন আমরা ছোটবেলা শাকিলা আপা, অণিমা ডি কস্টা, সুমনা হকের ভয়েজে জিঙ্গেল শুনলে খুবই আনন্দের একটা বিষয় থাকত। এখন জিঙ্গেল বেইজড বিজ্ঞাপন কম হচ্ছে, ভয়েজ ওভার বেশি হচ্ছে। সেসময় কিন্তু জিঙ্গেল বেইজড বিজ্ঞাপনগুলো খুবই জনপ্রিয় ছিল সবার কাছে।
প্লেব্যাকে সিন্ডিকেট রয়েছে কি?
আমি তো প্লেব্যাকে সিন্ডিকেট কখনো ফেস করিনি। ছোটবেলা থেকেই প্লেব্যাক করি। তো যেভাবে জানি, মিউজিক ডিরেক্টর ফোন করবেন আজকে ফ্রি আছ কি না, একটি সিনেমার গান গাইতে হবে! তা আস্তে আস্তে ঘুরতে ঘুরতে একটু প্রোডাকশন হাউস বা ডিরেক্টর-প্রডিউসারের দিক থেকে আসবে। তাই যেহেতু নিজে সিন্ডিকেট ফেস করিনি সেহেতু আমি জানি না।