খ্যাতনামা অভিনেত্রী মোমেনা চৌধুরীর মেয়ে নভেরা আহমেদ। এ পর্যন্ত তিনি করেছেন ‘মেড ইন বাংলাদেশ’, ‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’ ও ‘পেটকাটা ষ’-এর মতো কাজ। ২৪ তারিখ সারা দেশে মুক্তি পাচ্ছে তাঁর অভিনীত সিনেমা ‘রিকশা গার্ল’। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন- পান্থ আফজাল
অবশেষে ‘রিকশা গার্ল’ এদেশে মুক্তি পাচ্ছে। কেন্দ্রীয় চরিত্র করেছেন, ভালোলাগাটা কেমন?
এতদিন পর! আসলে অনেক আগেই কিন্তু সিনেমাটি আমরা শুট করেছি। বিভিন্ন কারণে এদেশে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সিনেমাটি বিদেশের অনেক স্থানে প্রদর্শিত হয়েছে। এটি দেখে সবাই ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। অনেক ফেস্টিভ্যালে গেছে ‘রিকশা গার্ল’। জার্মানির চিলড্রেন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা হয়েছে। বাংলাদেশের ঐতিহ্য রিকশা নিয়ে করা সিনেমাটি স্বীকৃতি পেয়েছে- এটা আসলেই গর্বের বিষয়। শিল্প হিসেবে বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ঘুরে এবার বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে ২৪ তারিখ মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি।
নাম পরিবর্তন হয়েছিল ‘নাইমার রঙ’...
যতদূর জানি, ‘রিকশা গার্ল’ হিসেবেই রিলিজ হচ্ছে। কারণ সেন্সর ‘রিকশা গার্ল’ হিসেবেই হয়েছে। নাম আর পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি।
মুক্তি দিতে দেরি হওয়ার কারণ কী ছিল?
২০১৯ সালে শুট করেছিলাম। রিলিজের কথা ছিল কভিডের মাঝখানে। কিন্তু কভিড পরিস্থিতির কারণে আর মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। এরপর ২০২২-২৩ এর সময় বিদেশে সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়। প্রথমে নিউইয়র্কে প্রিমিয়ার হয়। সেসময় বাংলাদেশ থেকে অনেকেই দেখতে গিয়েছিলেন। এরপর নিউইয়র্ক, ইউরোপ ও লন্ডনের অনেক শহরে একে একে প্রদর্শিত হয় ‘রিকশা গার্ল’। এখন দেখার পালা, দেশে মুক্তির পর মানুষ কীভাবে নেয়।
নিজেকে নায়িকা না অভিনেত্রী ভাবেন?
নায়িকা শব্দটা আমি ভীষণ অপছন্দ করি। বাইরের দেশে তো অ্যাক্টর বলা হয়। আমি মনে করি, ২০২৫-এ এসে সেভাবে ভাবা উচিত। আমি কখনোই নায়িকা নয়, অভিনেত্রী হতে চাই। আমি প্রাণপণ চেষ্টা করব যেন এ চরিত্রটাকে যেন মোডিফাই না করা হয়। সো, এ নায়িকা শব্দ থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।
এখন তাহলে নিয়মিত অভিনয় করবেন?
আমি কম কাজ করি। কারণ ব্যাটে-বলে ম্যাচ করে না। কানাডা থেকে এসে কিছু কাজ করেছি। এখন পড়াশোনা তো শেষ। আমি মাস্টার্স করতে লন্ডনে গিয়েছিলাম। সেখানে বেশকিছু প্রযোজনা ও শর্টফিল্ম করেছি। লাইন প্রডিউসার হিসেবে কাজ করেছি। এখনো ঢাকা-ইউকে মিলে কিছু প্রযোজনার কাজ করছি। এর মধ্যে নুহাশ হুমায়ূনের ‘পেটকাটা ষ’-এর প্রথম সেশনের চতুর্থ পর্বে অভিনয় করেছি। ‘মেড ইন বাংলাদেশ’, ‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’ করেছি। সামনে কিছু কাজের কথা চলছে। দেখা যাক।
মা মোমেনা চৌধুরী-মেয়ে নভেরার মধ্যে ঘরে-পর্দার রসায়নটা কেমন?
মায়ের সঙ্গে আমার খুবই ইন্টারেস্টিং রিলেশন। তিনি একদিকে যেমন আমার মা, অন্যদিকে কো-অ্যাক্টর। আমি তো কাজের সময় মোমেনা আপা বলেও ডাকি। তিনি অ্যাক্টিং না করলে আমি এ জায়গায় আসতাম না হয়তো। তাঁর প্রতি আমার অনেক কৃতজ্ঞতা। আসলে তাঁকে দেখেই তো আমার ক্যারেক্টারে ঢোকা।
নাচ-গানে ভরা কমার্শিয়াল ছবি কি করার ইচ্ছা রয়েছে?
আমি কিন্তু মাঝেমধ্যে চিন্তা করি, যদি করি। একসময় তো নাচতাম আমি। যদি ভালো গল্প ও চরিত্র হয়, কেন নয়! যদিও এটা আমার ক্যারেক্টারের সঙ্গে যায় না। তবুও...
মা কি আপনার বিয়ে নিয়ে চিন্তা করে?
মনে হয় করে। বিয়ে তো করতে হবে একসময়। তবে পারফেক্ট মানুষ পেলে বিয়ে করতে কোনো সমস্যা নেই।