সুরের রাজকুমারী আঁখি আলমগীর। দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এ তারকা সারা বছরই একক-দ্বৈত গান ও স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, নতুন বছরেও তাই। তাঁর সঙ্গে সাম্প্রতিক ব্যস্ততা নিয়ে কথা বলেছেন- পান্থ আফজাল
জন্মদিন ও নতুন বছরে নতুন চমক গানের মিউজিক ভিডিও। সব মিলিয়ে কেমন লাগছে?
৭ তারিখ ছিল আমার জন্মদিন। এ দিনকে উপলক্ষ করে এবং বিশেষ উপহার হিসেবে শ্রোতাদের জন্য আমার এ গান ও মিউজিক ভিডিও। জন্মদিন ও নতুন বছরের শুরুতে এমন একটি গান প্রকাশ করতে পেরে ভালো লাগছে। যারা আমার গান নিয়মিত শোনেন তাদের এ গানটি ভালো লাগবে আশা করছি।
গানটি নিয়ে ভালো লাগাটা শেয়ার করবেন...
মিউজিক ভিডিও ‘জানের জান’ প্রকাশ হলো। গানটা আমার নিজের কাছে ভালো লেগেছে। রোমান্টিক রিদমিক ঘরানার একটি গান। এটি লিখেছেন জামাল হোসেন। পুনম মিত্র চমৎকার সুর ও সংগীত করেছেন। মিউজিক ভিডিওতে ড্যান্স পার্টটা দারুণ হয়েছে। নির্মাতা সৈকত রেজাও ভালো ইফোর্ট দিয়েছেন। আর মডেল হিসেবে যারা ছিলেন তারাও ভালো করেছেন। পুরো টিমের সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ। কাজটি নিয়ে আশাবাদী।
দেশবিদেশে স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন...
ব্যস্ত থাকা আর কি! নিজেকে ব্যস্ত রাখার ব্যাপার থাকে। ব্যস্ততা আছে বলেই এখনো বেঁচে আছি। যদিও অনেক কাজ করা হয়ে ওঠে না। তবে হ্যাঁ, দেশ ও দেশের বাইরে স্টেজ শো করা হয়েছে।
প্লেব্যাকে কম দেখা যায়...
নতুন সিনেমা হচ্ছে, অনেক গান হচ্ছে। তবে আমি লিয়াজোঁ মেনটেইন করে কখনো গান গাইতে চাই না। আমার সঙ্গে সেটা যায় না। আমি আলাউদ্দিন আলী, আলম খান, সত্য সাহা, সুবল দা, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলসহ অনেক লিজেন্ডের সুরে গান করেছি। তাঁরা ফোন করে আমাকে গান গাইতে আসতে বলতেন। আমার গান গাওয়ার জায়গার অভাব তো নেই! নতুনরা ভালো গায়। কিন্তু নতুন মিউজিক ডিরেক্টররা বোঝে না, কাকে দিয়ে করালে গানটি ভালো হতে পারত। তবে যদি কেউ ভালো গানের জন্য নক দেয়, তবে আমি সবসময় তৈরি।
গানের বর্তমান অবস্থা কেমন?
আমি আশাবাদী মানুষ। ইতিবাচক থাকতে ও রাখতে পছন্দ করি। অ্যালবাম বা ক্যাসেটের সেই সময় এখন নেই। পরিবর্তন এসেছে গানের প্ল্যাটফরমে। এ চেঞ্জটাকে গ্রহণ করতে হবে। হা-হুতাশ করা যাবে না। সবকিছু মানিয়ে নিতে হবে। আসলে মানুষ অনেক ব্যস্ত। তবে সব ঠিকঠাক ও হাতে সময় থাকলে গান শুনতে চায় মানুষ। তাই না ভেবে এখন কেবল সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
দেশীয় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি নায়ক আলমগীরের মূল্যায়ন করতে পারেনি এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?
অভিনেতা আলমগীরের মূল্যায়ন করা যায় না। তবে মেয়ে হিসেবে আমি বলতে চাই, আব্বু সবদিক থেকেই অলরাউন্ডার। তিনি একজন অসাধারণ ও চমৎকার বাবা। তবে আব্বু অনেক প্রফেশনাল। শর্টকাট রাস্তায় তাঁকে কখনো চলতে দেখিনি। আব্বু আমাকে আমার মতো করে জীবনের পথে লড়াই করতে বলেছেন। তিনি স্পষ্টবাদী মানুষ। আমাকে সোজাসুজি বলে দিয়েছিলেন, তোমার পথে তুমি নিজের সাহায্যে চলবে। এ জন্য কোথাও কোনো সুপারিশ করতে পারব না। আমি চাই আব্বু নিয়মিত স্ক্রিনে থাকুক।