বিগ বাজেটের ছবি দিয়েই যাত্রা শুরু এ সময়ের ঢাকাই সিনেমার অন্যতম নায়ক রোশানের। কমার্শিয়াল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকটা লড়াই করেই নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছেন। দর্শকপ্রিয় সিনেমা দিয়ে পুরোপুরি তারকা হয়ে ওঠা এই নায়কের সঙ্গে কথোপকথন- পান্থ আফজাল
কেমন চলছে জিয়াউল রোশানের দিনকাল?
নতুন বছরের শুরু থেকে আলহামদুলিল্লাহ নানান ভাবে, নানান কর্মব্যস্ততার মধ্য দিয়ে কাটছে। বেশ কিছু কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সব মিলিয়ে অপেক্ষা আর অপেক্ষা।
একজন হাজব্যান্ড ও সন্তানের বাবা হিসেবে রোশানের অভিজ্ঞতা কেমন?
জলিল ভাই আগে একটা কথা বলেছিলেন, দেখ, আমরা যারা ম্যারিড ও আনম্যারিড। তো যারা আনম্যারিড আছে তারা তো আমাদের থেকে সিনিয়র। তো তাদের নিয়ে বলছিলেন, যখন তারা বাসায় যান তখন নিজের একটা পরিবার না থাকলে নিজেকে খুবই হতচ্ছাড়া মনে হয়। তো খুবই ঠাট্টা করে বলছিলেন আমাদের ভাইদের নিয়ে। যারা বিয়ে করেননি তারা হতচ্ছাড়া। বাড়িতে যখন যাবে তখন কেউ দেখার থাকবে না, কারণ সে ব্যাচেলর। ঘর অগোছালো থাকবে, খাবার নিয়ে কেউ বসে অপেক্ষা করবে না। কাউকে দেখার জন্য এক্সাইমেন্ট নিয়ে বাসায় যেতে ইচ্ছে করবে না। রাত-বিরাতে শুধুই ঘুরে বেড়াবেন। মানে একটা ইনডিসিপ্লিন লাইফ। যখন একটা মানুষ ম্যারিড হয়ে যায় তখন তার লাইফটা অনেকটা ডিসিপ্লিনের মধ্যে চলে আসে।
আমার কাছে মনে হয়, যখন একটা মানুষ সিঙ্গেল থাকে তখন তার চরিত্রকে ঠিক রাখা কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু ম্যারিড যারা তাদের মাইন্ড স্যাটেল থাকে, স্থির থাকে। আমি মনে করি, পরিবারটা হলো একটি আত্মিক শান্তির জায়গা। আমি যখন বাড়িতে যাই আমার ফ্যামিলি, আমার ওয়াইফ, রিসেন্ট আল্লাহতায়ালার অশেষ মেহেরবানি, তিনি আমাকে ফুটফুটে একটি কন্যাসন্তান উপহার দিয়েছেন- সব মিলিয়ে পরিবারটা আমার কাছে জান্নাতের মতো। যতক্ষণ আমি আমার মেয়ের পাশে থাকি মনে হয়, জান্নাতের সুবাতাস বইছে চারপাশে। তো, আমি বলব যারা এখনো বিয়ে করেননি তারা তাড়াতাড়ি বিয়ে করে ফেলেন...হা-হা-হা।
সন্তানকে নিয়ে রোশানের পরিকল্পনা?
ডেফিনেটলি মিডিয়াতে কাজ করবে না। আমি একটি ডিসিপ্লিন লাইফ তাকে উপহার দিতে চাই।
অন্তত অসততার পথ আমি কখনো গ্রহণ করিনি। তাকেও করতে দেব না। সমাজে সে যেন একজন ভালো মানুষ ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে সামনের পথ চলতে পারে।
বাংলা সিনেমায় একটা ধারণা আছে বিয়ে করলে ক্যারিয়ার শেষ। এ প্রসঙ্গে কী বলবেন?
শাকিব ভাইয়ের কি ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে? হয়নি তো। দেখুন আমরা যখন ২৬ থেকে ২৯ এর কোঠায় পৌঁছে যাই, তখন কিন্তু সেলফিস হলে কিন্তু চলবে না। কাজ করছি নিজের জন্য। মা-বাবার অনেক আশা থাকতে পারে। হয়তোবা ভালোবাসার মানুষ থাকতে পারে। তাদের কথা তো আপনাকে চিন্তা করতে হবে। আমি অ্যাক্টর হয়েছি দর্শকের জন্য। যখন আমি অ্যাক্টর রোশান হয়ে যাই তখন দর্শকদের সঙ্গে আমার অনেক প্রেম।
আমি ফিমেল ফ্যানসকে অনেক ভালোবাসি। তারা আমাকে লাইক করে। আমার অনেক মেল ফ্যানসও রয়েছেন।
আর আমি অ্যাজ এ ম্যান সেটা ফ্যামিলির জন্য। দুটি বিষয় একেবারেই আলাদা। তবে সব মিলিয়ে দর্শকদের জন্যই তো আমি বেঁচে আছি। তাদের জন্য আমি সারা জীবনই সিঙ্গেল। ডোন্ট অরি।