গাজায় নিরপরাধ ফিলিস্তিনিদের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়ে বিপুলসংখ্যক প্রাণহানি ঘটিয়েছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার সারা দিন ব্যাপক বোমা হামলার মাধ্যমে তারা শিশুসহ ৪০৫ জন ফিলিস্তিনির জীবন কেড়ে নেয়। তারপরও রাতভর চলে বর্বর হামলা। জাতিসংঘ তীব্র ভাষায় ইসরায়েলি বর্বরতার নিন্দা জানিয়েছে। এমনকি ইহুদি রাষ্ট্রটির বিরোধী দল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অকারণ যুদ্ধ শুরুর সমালোচনা করে জনগণকে প্রতিবাদে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, হামাসের বিভিন্ন স্থাপনা ছিল তাদের আক্রমণের টার্গেট। গাজায় এক বছরের বেশি সময় ধরে লাগাতার ইসরায়েলি হামলায় পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে প্রায় সব জনপদ। প্রচণ্ড খাদ্যাভাব চলছে গাজাজুড়ে। ২০ লাখেরও বেশি গাজাবাসী অনাহার-অর্ধাহারের শিকার। খাওয়ার পানির অভাবও সেখানে প্রকট। গাজায় বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এমন বেহাল অবস্থায় হামাস স্থাপনা ধ্বংসের নামে নিরপরাধ মানুষকে হত্যার যে পথ তারা বেছে নিয়েছে, তা বিশ্ববাসীর সামনে ইহুদিবাদের জঘন্য চেহারাই প্রকারান্তরে উন্মোচিত করেছে। রমজান মাসে সিয়ামসাধনারত গাজাবাসীর ওপর ইসরায়েলি হামলা বিশ্ববিবেককে আহত করেছে। বাংলাদেশ ইসরায়েলি বর্বরতার তীব্র সমালোচনা করে বিবৃতি দিয়েছে। গাজায় যেভাবে বর্বর হামলা চালানো হচ্ছে তা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, গাজাবাসী তথা ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। প্রতিবেশী আরব দেশগুলো সিয়ামসাধনার মাসে তাদের ফিলিস্তিনি ভাইদের ওপর ইসরায়েলের ইহুদিবাদী শাসকদের নৃশংস আচরণকে দৃশ্যত মুখ বুজে হজম করছে। ইরানের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানোর যে দৃঢ়চেতা মনোভাব এত দিন সক্রিয় ছিল ইসরায়েলি হামলায় নিজেরা পর্যুদস্ত হওয়ার পর তারাও অসহায়ভাবে নীরবতা পালন করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদতে সিরিয়ায় যে তালেবানপন্থি নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে তারা তাদের দেশের মাটিকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দিতে নারাজ। এ অবস্থায় নিজেদের অস্তিত্বরক্ষায় ফিলিস্তিনিদের লড়তে হবে নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ে। শত্রু ও মিত্র কারা তা চিহ্নিত করে বিভেদকামী শক্তির বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে জাতীয় ঐক্য।