রেমিট্যান্স আয় বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা। এক কোটিরও বেশি প্রবাসী মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আয় করে তা দেশে পাঠান। তাঁদের বাবা-মা, ভাইবোন, স্ত্রী ও সন্তানের জন্য বিদেশবিভুঁইয়ে বেছে নেন একাকিত্বের কষ্টকর জীবন। কিন্তু রেমিট্যান্স খাত মানব বেপারী নামের একশ্রেণির লোভী মানুষের ভাগ্যেরই শুধু পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অর্জন খুবই সামান্য। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অভিবাসন খরচ দুনিয়ার যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে গড়ে তিন গুণ বেশি। দেখা যায়, জমি বেচে বা উচ্চ সুদে ধার নিয়ে যাঁরা বিদেশে কাজের জন্য যান, তাঁদের সিংহভাগই প্রতারণার শিকার হন। যে বেতনের কথা বলে বিদেশে পাঠানো হয়, বাস্তবে তাঁরা পান তার অর্ধেক কিংবা তারও কম। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে ১ হাজার ১২৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও তাঁর স্ত্রী-কন্যা, সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী, লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, বেনজীর আহমেদের প্রতিষ্ঠানসহ ১২টি রিক্রুটিং এজেন্সির ৩২ মালিক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সরকারনির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার স্থলে অতিরিক্ত পাঁচ গুণ অর্থ নিয়ে ৬৭ হাজার ৩৮০ জন প্রবাসীর কাছ থেকে তাঁরা ওই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। ১২টি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে মেসার্স ওরবিটাল এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে ৬ হাজার ২৯ প্রবাসীর কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রায় ১০১ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের স্ত্রী কাশমিরি কামাল। মামলায় কাশমিরির পাশাপাশি মুস্তফা কামালকেও আসামি করা হয়েছে। ওরবিটাল ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে ২ হাজার ৯৯৫ জনের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫০ কোটি ১৬ লাখ ৬২ হাজার টাকা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মুস্তফা কামালের মেয়ে নাফিসা কামাল।
মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাচারের নামে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১ হাজার ১২৮ কোটি টাকা আদায় হয়েছে বিগত পতিত সরকারের আমলে। স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও দুদক কেন সে সময় এ বিষয়ে নজর দেয়নি, সে বিষয়টিও তদন্তের দাবি রাখে।