একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জনের পর, গত ৫৩ বছর দেশে বারবার হোঁচট খেয়েছে গণতন্ত্র। কখনো বাকশাল নামে, কখনো সামরিক শাসনে, কখনো কঠিন স্বৈরাচারে। গণতান্ত্রিক অধিকারবঞ্চিত হয়েছে জনগণ। মন খুলে কথা বলতে পারেনি; ভালোকে ভালো, মন্দকে মন্দ বলার সাহস পায়নি। নিজে ভোট দিয়ে পছন্দের মানুষকে নির্বাচিত করার অধিকারও হারিয়েছিল। দেড় দশক ধরে শেখ হাসিনার শাসনামলে দুর্নীতি-দুরাচার-দুঃশাসন এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে জুলাই-বিপ্লবে সারা দেশের মানুষ পথে নেমে এসে তার পতন ঘটিয়েছে। এখন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্ব, শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস যার প্রধান উপদেষ্টা। এ সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার করছে। সমতা-শৃঙ্খলা, ন্যায্যতা-মর্যাদা ও সম্প্রীতি-সততার নতুন বাংলাদেশ গড়াই লক্ষ্য। সেটাই প্রত্যাশা জনগণের। সংবিধান এবং নির্বাচিত আইনপ্রণেতাদের প্রবর্তিত আইনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা দেশ পরিচালনার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন- এটাই গণতান্ত্রিক চর্চা। এজন্যই প্রয়োজন জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গত আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই এ নিয়ে কথা হচ্ছে। নানা আলোচনা রাজনৈতিক মহলে। মতবিনিময় হচ্ছে অংশীজনদের। দাবি উঠছে দ্রুত নির্বাচনের। কেউ বলছেন আগে সংস্কার, পরে নির্বাচন। কোনো পক্ষের মতে আগে নির্বাচন, তারপর নির্বাচিত সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার করবে। এমন একটা দোদুল্যমান পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দুবাইয়ে ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিটের এক অধিবেশনে ড. ইউনূস বলেছেন, ডিসেম্বর নাগাদ নির্বাচনের সম্ভাবনা। বলেছেন, সংস্কার নিয়ে সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটা চার্টার হবে। সে অনুযায়ী জরুরি সংস্কারগুলো শেষে ডিসেম্বরেই জাতীয় নির্বাচন হতে পারে। নতুন বাংলাদেশ গঠনে এটা একটা বড় দায়িত্ব। তিনি এ গুরুদায়িত্ব পালন শেষে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে, নিজের কাজে ফিরে যেতে চান। আমরা তাঁকে সাধুবাদ জানাই। তাঁর সদিচ্ছা সফল হোক। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সৎ ও যোগ্য মানুষেরা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও রক্ষা করুন। শুরু হোক প্রকৃত গণতন্ত্রের অভিযাত্রা। বিনির্মিত হোক নতুন বাংলাদেশ।