সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের সাফল্য দুনিয়াজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে মাত্র চার বছর আগে এ বিষয়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে বলেছিল সে দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, দারিদ্র্যমোচনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন কল্পকথার ভূতের মতো পেছনের দিকে হাঁটছে। দেশে এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে ১৯ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ। সোজা কথায় প্রতি পাঁচে একজন দারিদ্র্যসীমার নিচে। সবচেয়ে বেশি গরিব মানুষের বসবাস বরিশাল বিভাগে, যার পরিমাণ ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। সবচেয়ে কম ১৫ দশমিক ২ শতাংশ দরিদ্র মানুষের বাস চট্টগ্রাম বিভাগে। সবচেয়ে বেশি মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলায় ৬৩.২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিআইসিসি সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির যে তথ্য উঠে এসেছে তা উদ্বেগজনক। বিশ্বব্যাংক, বিশ্ব খাদ্য সংস্থা ও বিবিএসের যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে, শহরে দারিদ্র্যের হার সাড়ে ১৬ শতাংশ হলেও গ্রামে তা ২০ শতাংশের বেশি। স্মর্তব্য, বিবিএসের ‘খানা আয় ও ব্যয় জরিপ ২০২২’ অনুযায়ী দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। দুই বছরের ব্যবধানে ঢাকায় দারিদ্র্যের হার ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১৯ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। শহরের তুলনায় গ্রামে দারিদ্র্যের হার বেশি। বিবিএসের প্রতিবেদনে দারিদ্রের হার বৃদ্ধির যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তার প্রতিক্রিয়া ইতোমধ্যে অনুভূত হচ্ছে। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পেছনে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি যে ইন্ধন জোগাচ্ছে, তাতে সংশয়ের কোনো সুযোগ নেই। দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যেও হুমকি সৃষ্টি করছে। দেশ যখন গণতন্ত্রের পথে নতুন করে যাত্রা শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন দরিদ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি সরকারের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বললেও ভুল হবে না। এ সংকট মোচনে দ্রুত নির্বাচনের পথে হাঁটাই হবে সরকারের জন্যে শ্রেয়। নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব পেলে পেছনে হাঁটার বিড়ম্বনা থেকে জাতি মুক্তি পাবে বলে আমাদের বিশ্বাস।