যুক্তরাষ্ট্রে আবার শুরু হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প জমানা। বাইডেন জমানার অবসান ঘটেছে। বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বাইডেন ছিলেন সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট। মার্কিন মুল্লুকে কোনো প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয় মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামলে ভোটাররা সাধারণত তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেন না। কিন্তু জনমত জরিপে ভরাডুবির আভাস পেয়ে বাইডেন দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার অভিলাষ থেকে সরে আসেন। তাঁর বদলে ডেমোক্র্যাট দলের মনোনয়ন পান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। মার্কিন নির্বাচনে বাইডেনের কারণেই ভারতীয় বংশো™ূ¢ত কমলাকেও হারতে হয়েছে সুস্পষ্ট ব্যবধানে। যদিও নির্বাচনি প্রচারণায় কমলাই ছিলেন এগিয়ে। ডেমোক্র্যাট দলের সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন ও ওবামা ‘সুন্দরী কমলাকে’ সমর্থন জানিয়েও জনমতকে বেশ প্রভাবিত করেন। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। আরও দুটি কারণে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন কমলা হ্যারিস। মুখে যা-ই বলুন, মার্কিনিরা একজন নারীকে তাদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেনে নিতে নারাজ। যুক্তরাষ্ট্রে খ্রিস্টবাদী চেতনার বিকাশও কমলার পরাজয়ের জন্য দায়ী। যিশুখ্রিস্টকে ক্রুশবিদ্ধ করেছে যে ইহুদিরা, তাদের প্রতি খ্রিস্টানদের মনোভাব ভালো হওয়ার কথা নয়। গাজা ও ইউক্রেন যুদ্ধ উসকে দিয়ে যুদ্ধবাজ হিসেবে বাইডেন যে দুর্নাম কিনেছেন, আমেরিকার শান্তিপ্রিয় মানুষ তা ভালোভাবে নেয়নি। বাইডেনের সব দুষ্কর্মের অংশীদার কমলাকে সমর্থন করে মার্কিনিরা বিশ্বের পাশাপাশি আমেরিকাতে বিপদে ফেলতে চায়নি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আগের চার বছরের শাসনামলে খ্যাপাটে প্রেসিডেন্ট হিসেবে অন্যরকম এক পরিচিতি গড়ে তোলেন। তবে তিনি ছিলেন জাতে পাগল তালে ঠিক। মুখে যা-ই বলুন, বিশ্বশান্তি যাতে ক্ষুণ্ন না হয় সে ব্যাপারে ট্রাম্প সতর্ক ভূমিকাই রেখেছেন। যুদ্ধ-সংঘাতে জড়াবার বদলে হুমকিধমকি দিয়ে প্রতিপক্ষকে সামাল দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থরক্ষাকে প্রাধান্য দিয়েছেন সর্বক্ষেত্রে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের আগে ব্রিটেন ছিল দুনিয়ার সেরা পরাশক্তি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিশ্বযুদ্ধের শেষ ভাগে আমেরিকা জাপানে পারমাণবিক বোমা ফেলে জার্মান, জাপান, ইতালি অক্ষশক্তির পরাজয় নিশ্চিত করে। তবে অন্যাংশের মতে, রাশিয়ার কাছে জার্মানির পরাজয়ের পর জাপানের আত্মসমর্পণ ছিল সময়ের ব্যাপার। আমেরিকা নিজেদের শক্তি জাহির করার জন্য জাপানের দুটি সমৃদ্ধ নগরী হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে আণবিক বোমা ফেলে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করে। এটি ছিল প্রকারান্তরে মার্কিনিদের শক্তি প্রদর্শনের মহড়া। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর অংশগ্রহণকারী প্রায় সব দেশ অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়লেও আমেরিকা ছিল একমাত্র সচ্ছল। অর্থনৈতিক সামর্থ্যরে সুযোগ নিয়ে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর ছলে-বলে-কৌশলে তারা বিশ্বের মহাপ্রভুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট বাইডেন ছিলেন একজন ইহুদির চেয়েও বেশি ইসরায়েলপ্রেমী। যা বিশ্বশান্তির জন্য বিড়ম্বনা বয়ে এনেছে। তাঁর কাণ্ডজ্ঞানবর্জিত ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ধুলায় লুণ্ঠিত করেছে। গাজায় ভয়াবহ গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের পেছনে বাইডেন প্রশাসনের ইন্ধন ছিল বলে সন্দেহ করা হয়। ইসরায়েলকে নিরাপদ করতে লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও ইরানে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর মদত দিয়ে বাইডেন মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের ভারসাম্য নষ্ট করেছেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পেছনেও বাইডেন নামের বুড়ো ধাড়ির কালো হাত ছিল বলে ভাবা হয়।
দুটি কারণে বাংলাদেশের জন্য সাক্ষাৎ যম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন বাইডেন। ২০২০ সালে তিনি যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, তখন চলছে করোনাকাল। সারা দুনিয়ার অর্থনীতি বিপর্যস্ত। সারা বিশ্বে সে সময় ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট জার্নাল পরামর্শ দিয়েছিল, কীভাবে অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে হয় সে বিষয়ে বাইডেন যেন বাংলাদেশের কাছ থেকে পরামর্শ নেন। যুক্তরাষ্ট্র নামের বটগাছ দূর্বাঘাসের কাছে পরামর্শ নেবে এমন পরিহাস মেনে নিতে পারেনি বিশ্ব মোড়ল। বাইডেন নামের শ্যাম চাচা সম্ভবত, এই অপমানকে এক মুহূর্তের জন্য ভোলেননি। তিনি যে ইতোমধ্যে অপমানের বদলা নিতে পেরেছেন তা এক মহাসত্য। বাইডেন বাংলাদেশের আরও দুটি ‘অপরাধের’ প্রতিশোধ নিতে সক্ষম হয়েছেন। পাঁচ দশক আগে শেখ মুজিব ফিলিস্তিনের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের অনুমতি দিয়েছিলেন। মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট, ৮ হাজার বাংলাদেশি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়েছে ফিলিস্তিনিদের হয়ে। বন্ধু ইসরায়েলের হয়ে বাইডেন তাঁর শাসনকালেই শেখ মুজিবের সে দুঃসাহসের দাঁতভাঙা জবাব দিতে পেরেছেন এমন অভিমত ইতিহাস বিশ্লেষকদের।
ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের আগেই গাজায় যুদ্ধবিরতি অবশ্যই বিশ্ববাসীর জন্য একটি ভালো লক্ষণ। ইউক্রেন যুদ্ধের ইতি ঘটাতে করণীয় সবকিছু তিনি করবেন এমন আভাসও মিলেছে। যে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলানো দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ-উত্তর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ইরাক ও লিবিয়ার মতো দেশ আজ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে শ্যাম চাচার কারণে। অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলানোর কু-অভ্যাসের পরিণতিতে বিশ্বশান্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই আচরণ কোনোভাবেই বিশ্ব মোড়লের জন্য মানানসই নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও তাদের সমমনারা মনেপ্রাণে চাচ্ছিলেন ট্রাম্প আবার জিতে আসুন। সেদিক থেকে তারা সফল হয়েছেন। ট্রাম্পের ছবি নিয়ে মিছিলও করেছেন তারা রাজধানীতে।
আমাদের দেশের রাজনৈতিক দল বা নেতারা আমেরিকার কাছ থেকে কে কী আশা করেন এটি তাদের নিজস্ব বিষয়। তবে তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আমেরিকা সম্পর্কে দক্ষিণ ভিয়েতনামের পদচ্যুত প্রেসিডেন্ট লুগুয়েন ভ্যান থিয়েওর সেই বহুল প্রচারিত উক্তিটি। যিনি বলেছিলেন, আমেরিকা যার বন্ধু তার আর শত্রুর দরকার হয় না।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয় ছিল প্রকারান্তরে আমেরিকার পরাজয়। বঙ্গোপসাগরে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েও যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিশ্বস্ত শিষ্য পাকিস্তানের পরাজয় ঠেকাতে পারেনি। এই দুঃখ তাদের ৫৩ বছর ধরে তাড়িয়েছে। পাকিস্তানের বিশ্বস্ত বন্ধু হেনরি কিসিঞ্জার ম্ুিক্তযুদ্ধের পর বাংলাদেশ সম্পর্কে ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন তলাবিহীন ঝুড়ি। সে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তা কোনো মার্কিন শাসকের পছন্দ হওয়ার কথা নয়। বাংলাদেশে সরকারকে উৎখাতের আন্দোলনে তারা যে নেপথ্যে থেকে ভূমিকা রেখেছে, তা একটি ওপেন সিক্রেট। সে বিবেচনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শুধু নন, তাঁর ‘ঝগড়াপ্রিয়’ কন্যা শেখ হাসিনার ওপরও প্রতিশোধ নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন বাইডেন।
বাংলাদেশে দীর্ঘকাল ধরে আমেরিকা ও তার সহযোগী ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা ছিলেন অপ্রকাশ্যে দেশ শাসনের অংশীদার। ইমাম প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে মার্কিন এক মহিলা রাষ্ট্রদূত বক্তব্য রাখছেন স্কার্ট পরে এমন ছবি পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়েছে সাড়ম্বরে। শেখ হাসিনার আমলে রাষ্ট্রদূতদের প্রভু সাজা রুদ্ধ হয়। তবে হাসিনা জমানায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে যে ব্যবহার করা হয়েছে তা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থি। এক রাষ্ট্রদূতকে তাঁর সামনেই অভিহিত করা হয়েছিল ‘কালা জাহাঙ্গীর’ নামে। তিনি যে বাংলা শিখেই বাংলাদেশে এসেছিলেন তা অনেকের জানা ছিল না। তাই সাফ সাফ বলেছিলেন আমি ‘হ্যারি কে টমাস’ ‘কালা জাহাঙ্গীর’ নই। আরেক রাষ্ট্রদূতকে কাজের মেয়ে বলে প্রকাশ্যে টিটকারি করতেন আওয়ামী নেতারা। ফলে শেখ হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন তাদের প্রতি যে ওয়াশিংটনের আশীর্বাদ ছিল তা অনুমান করতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভিয়েতনামের মুক্তিসংগ্রামের অনেক দিক থেকে মিল রয়েছে। মেকং নদীর দেশ ভিয়েতনাম ছিল ফ্রান্সের উপনিবেশ। সে দেশের স্বাধীনতার জন্য গড়ে ওঠে ভিয়েতনামের ওয়ার্কার্স পার্টি। যে পার্টির নেতৃত্বে ছিলেন হো চি মিন। ভিয়েতনামিরা যাঁকে সম্মান জানায় স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক ভিয়েতনামের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর চাচা হো চি মিনের নেতৃত্বে ভিয়েতনামের উত্তর অংশ থেকে ফরাসিদের হটিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে গঠিত হয় স্বাধীন ভিয়েতনাম সরকার। ভিয়েতনামি মুক্তিযোদ্ধারা যখন দক্ষিণ অংশ মুক্ত করার জন্য এগিয়ে যাচ্ছিল তখন এগিয়ে আসে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি। ১৯৪৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও তাদের মিত্ররা হো চি মিনের মুক্তিসেনাদের ঠেকাতে সৈন্য পাঠায় দক্ষিণ ভিয়েতনামে। মেকং নদীর দেশ ভিয়েতনাম সাম্রাজ্যবাদীদের থাবায় দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ভিয়েতনামের মানুষ স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছে ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় নৃশংস জাপানি দখলদারদের বিরুদ্ধে লড়েছে তারা। ভিয়েতনামের উত্তর অংশকে মুক্ত করে ঠিক যখন দক্ষিণ অংশ মুক্ত করতে এগিয়ে যাচ্ছিল ভিয়েতনামি মুক্তিযোদ্ধারা। ঠিক এখন গণতন্ত্রের নামে মাঠে নামে আমেরিকা। দক্ষিণ ভিয়েতনাম চলে যায় আমেরিকার তাঁবেদারদের নিয়ন্ত্রণে। আমেরিকার মদতে ১৯৬৫ সালে সেনাপ্রধান জেনারেল নগুয়েন ভ্যান থিয়েও দক্ষিণ ভিয়েতনামের ক্ষমতা দখল করেন। নিজের দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার শর্তে গণতন্ত্রের সোলএজেন্ট ওয়াশিংটনের সমর্থন লাভ করেন। নগুয়েনের চেলাচামুণ্ডারা নিজেদের মা-বোন-কন্যাদের পাঠিয়ে দিত আমেরিকান সৈন্যদের ক্যাম্পে। যেমনটি করেছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগীরা। সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন নিপীড়ন চালিয়ে তারা প্রভুভক্তির পরকাষ্ঠা দেখাত।
নগুয়েন ভ্যান থিয়েও ক্ষমতা হারান ১৯৭৫ সালে। ভিয়েতনামে আমেরিকা যখন নিশ্চিত হারার পথে তখন তারা সে দেশ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করা হয় ভিয়েতনাম থেকে। সঙ্গে সঙ্গে তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ে দক্ষিণ ভিয়েতনামের দালাল প্রেসিডেন্ট নগুয়েনভ্যান থিয়েওর প্রশাসন। নগুয়েন পালিয়ে যান বিদেশে। দুঃখ-ক্ষোভে বলেন আমেরিকা যার বন্ধু তার আর শত্রুর প্রয়োজন নেই। ইরানের শাহেন শাহ রেজা শাহ পাহলভি ইসলামি বিপ্লবে ক্ষমতা হারানোর পর বিদেশে পালিয়ে গিয়ে একই উক্তি করেছিলেন। বাংলাদেশে যারা ট্রাম্পের আগমনে উল্লাস প্রকাশ করছেন, তাদের জন্যও এটি এক মহা সতর্কবার্তা বললে ভুল হবে না। বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আশা করব, ট্রাম্প প্রশাসন অতীতের ভুল থেকে বেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি বিশ্বশান্তির জন্য অবদান রাখবে। গণতন্ত্রের প্রতি জর্জ ওয়াশিংটন ও আব্রাহাম লিংকনের দেশের অঙ্গীকারকে আমরা শ্রদ্ধা জানাই। তবে সেটি যাতে অন্য দেশকে ঘায়েল করার অস্ত্র না হয়, সেদিকেও সতর্ক থাকা উচিত।
লেখক : সিনিয়র সহকারী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন
ইমেইল : [email protected]