রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে মাদক স্পট। সেখানে ভিড় জমছে কিশোর-যুবক থেকে শুরু করে নানা বয়সের নারী-পুরুষের। এসব মাদক স্পটে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনের ভয়ংকর সব নেশার সামগ্রী। অভিযোগ যে এগুলো পরিচালনা করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। কিন্তু মাদকের বিকিকিনি বন্ধ তো হচ্ছেই না, বিশেষ কমছে বলেও মনে হচ্ছে না। এতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদিচ্ছা, সততা ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অভিজ্ঞ মহলের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠছে মাদক মাফিয়া, গ্রহীতা ও সেবীরা। আগে রাজধানীতে ৩০০ মাদক স্পটের কথা শোনা গেলেও এখন নাকি দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। বাইরে নির্দোষ চা-দোকানের টংঘর, কিন্তু তারই আড়ালে বিক্রি হচ্ছে হরেক রকমের মরণনেশা। রমরমা মাদক-বাণিজ্যের এ খবর ছাপা হয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিনে। সেখানে অপরাধ বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যে উঠে এসেছে, গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রভাবশালী সমন্বয়ক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে এ নিয়ে কোনো হেলদোল, তাপ-উত্তাপ দেখা যাচ্ছে না। অন্য বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মনোযোগ। অথচ মাদকের এমন সহজপ্রাপ্যতায় কিশোর-তরুণ থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এমনকি অনেক গৃহবধূর মধ্যে মাদকাসক্তি সংক্রমিত হচ্ছে। এতে তাদের সুশীল বিকাশ বিঘ্নিত, শিক্ষাধারা ব্যাহত এবং ক্যারিয়ার ধ্বংস হচ্ছে। অনেকেই মাদকের টাকা জোগাড় করতে পরিবারে অশান্তি সৃষ্টিসহ ছোট-বড় নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ঘরেবাইরে খুনখারাবি পর্যন্ত ঘটছে তাদের হাতে। উদ্বেগের বিষয় যে এ চিত্র শুধু রাজধানী বা শহরগুলোর নয়। মাদকের থাবা সম্প্রসারিত হয়েছে শহরতলি থেকে গ্রাম-গ্রামান্ত পর্যন্ত। এ থেকে বেরিয়ে না আসতে পারলে সমূহ সর্বনাশ। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সব বাহিনী ও সংস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সক্রিয় হতে হবে। মাদকের গডফাদার থেকে পাড়া-মহল্লার খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত সবখানে চিরুনি অভিযান চালাতে হবে। রাষ্ট্র সংস্কারের চলতি সময়ে কাজটা তুলনামূলক সহজ হওয়ার কথা। কারণ রাজনৈতিক পান্ডাদের দৌরাত্ম্য এ সময় অতটা কার্যকর নয়। মাদক নিয়ন্ত্রণে এই সুযোগটা নেওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এখনই সময়।