ভোজন রসিক বাঙালির ইফতার মানেই বাহারি রকম ও স্বাদের বিভিন্ন খাবার। ইফতারি প্লেটে চাই খেজুরসহ বিভিন্ন বিদেশি ফল। সেইসঙ্গে মিষ্টি জাতীয় খাদ্য ইফতারের প্লেটে যুক্ত করতে বাঙালি রোজাদারদের একটি চিরচারিত নিয়ম।
ফেনী জেলায় এমনই একটি মিষ্টি খাদ্য রয়েছে যা কিনা ইফতারের সঙ্গে চাইই চাই। সেটি হলো মাসকালাই ডালের তৈরি জিলাপি বা আমৃত্তি। মাসকালাই ডালের এই জিলাপি ইফতারের প্লেটে অন্য সকল মিষ্টিকে ছাড়িয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে প্রায় ৩ শতক ধরে। কেউ আবার এই মাসকালাইয়ের জিলাপিকে আমৃত্তি বলে।
ফেনী শহরের ভিতরের বাজারে ইসলামিয়া সুইটস নামে একটি দোকানে মাসকালাই ডালের জিলাপি তৈরি করা হয়। রমজান কিংবা পূজায় এর কদর বেশি থাকলেও সারাবছর জুড়েই কারিগর মিজানুর রহমান তৈরি করে আসছে এই জিলাপি। পুরো জেলায় একমাত্র মিজানের দোকানেই এই জিলাপি পাওয়া যায়।
মূলত জিলাপি বানানোর আগে মাসকালাই ডাল ভালোভাবে ধুয়ে তা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয় কিছুক্ষণ। এরপর হাতে শীল-পাটায় অথবা মেশিনের সাহায্যে ওই ডাল পিষিয়ে নরম করা হয়। পরবর্তীতে ওই ডালের সঙ্গে সামান্য কিছু চালের গুড়া বা বেসন দিয়ে জিলিপি তৈরির মূল উপাদান তৈরি করা হয়।
এরপর কাপড়ের মধ্যে রেখে তা চেপে ধরে গরম তেলের মধ্যে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ওই তেল থেকে জিলিপিগুলো তুলে চিনির রসের মধ্যে ছেড়ে দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে তুলে ফেলা হয়। এরপর এ জিলাপি বিক্রি করা হয়। আর ঠিক এভাবেই প্রতি কেজি ২৪০ টাকা করে গড়ে প্রতিদিন ৩০০ কেজি জিলাপি বিক্রি হচ্ছে এখানে। যেখান থেকে মাসিক হিসাবে মোট জিলাপি বিক্রি হয় প্রায় ২০ লাখ টাকার কাছাকাছি।
জিলাপি নিতে আসা আজমীর মিশু নামে এক ক্রেতা বলেন, এই মচমচে রসালো জিলাপি ইফতারে প্রশান্তি দেয়। জিলাপি তৈরির দৃশ্য ও সুগন্ধ রোজাদারদের প্রলুব্দ ও ভিন্ন এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গরম গরম এই জিলাপি খুব মজাদার ঠান্ডা হলে স্বাদ তেমন থাকে না।
সাজ্জাত মিরাজ নামে একজন বলে, অন্যান্য জিলাপির তুলনায় এটির সাধ ভিন্ন। ইফতারের জন্য এই জিলাপি খেতে হয় তাই দামের দিকটা হিসাব করা হয় না। পরিবারের সবাই মিলে বেশ আনন্দের সাথে ডাল জিলাপি খেয়ে থাকি।
মাসকালাই ডালের জিলাপির কারিগর মিজানুর রহমান বলেন, প্রায় ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে এই জিলাপি তৈরি করে আসছি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দাম প্রতি বছরই কিছু কিছু বাড়লেও জিলাপির গুণগতমান একই রয়েছে। রমজানের পবিত্রতা ও রোজাদারদের বিবেচনায় বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে কোনো রকম রঙ বা কেমিক্যাল ব্যবহার না করে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাসহ অতি সাবধানতার সঙ্গে এই জিলাপি তৈরি হয়ে থাকে। তাই এর স্বাদ ও চাহিদা যুগ যুগ ধরে একই রকম রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিডি প্রতিদিন/আরাফাত