খুলনায় শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে ২০১২ সালে ভেড়ামারা থেকে খুলনা পর্যন্ত পাইপলাইন বসানোর কাজ শুরু হয়। আড়ংঘাটা পর্যন্ত প্রায় ১৬৫ কিলোমিটার পাইপ বসানোর পর সেই প্রকল্প বাতিল হয়ে যায়। পরে ভোলা-বরিশাল-খুলনা রুটে গ্যাস সরবরাহের সম্ভাব্যতা যাচাই হয়। কিন্তু গত মার্চে জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা জানায়, গ্যাস ভোলা থেকে পাইপলাইনে খুলনার বদলে প্রথমে ঢাকায় নেওয়া হবে। এর ফলে খুলনায় পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহের প্রক্রিয়া ফের থমকে যায়। এদিকে, বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত জ্বালানিসংকটেই শিল্পহীন হয়ে পড়েছে এক সময়কার শিল্পনগরীখ্যাত খুলনা। গ্যাসের বদলে বিদ্যুৎ ও ফার্নেস অয়েল ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে লোকসানে পড়ছে শিল্পকারখানা। এ বিষয়ে খুলনার পাটশিল্প রক্ষা সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই খুদা বলেন, গ্যাসের অভাবে মিল-কারখানায় উৎপাদন ব্যয় প্রায় ছয় গুণ বেড়ে যায়। ফলে লোকসানের মুখে চিংড়ি কারখানা, পাটকল, নিউজপ্রিন্ট, হার্ডবোর্ড মিল, ম্যাচ ফ্যাক্টরিসহ অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। খুলনায় শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহের বিকল্প নেই।
একইভাবে খুলনায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ন্যূনতম গ্যাস সরবরাহের দাবি জানিয়ে সচেতন নাগরিকদের সংগঠন খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব বাবুল হাওলাদার বলেন, গ্যাস না থাকায় বিনিয়োগের আগ্রহ নেই শিল্পউদ্যোক্তাদের। খুলনায় পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ থাকলে উৎপাদন ব্যয় অনেকটা কমে যাবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে লাভজনক হলে এখানে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। তিনি আরও বলেন, মোংলা সমুদ্রবন্দরের আধুনিকায়ন ও পদ্মা সেতু নির্মাণের পর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জ্বালানিসংকট নিরসন করতে পারলে বিনিয়োগ খাতে এ অঞ্চলে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, ভোলা থেকে পাইপলাইনে খুলনায় গ্যাস সরবরাহ প্রকল্প স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামছে খুলনার নাগরিক সংগঠনগুলো। নাগরিক নেতা আ ফ ম মহসীন বলেন, গ্যাসের অভাবে বেশি ধুঁকছে খুলনার শিল্প খাত। চড়া দামে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। লোকসানের কারণে বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে শিল্পনগরী খুলনা বিরাণভূমিতে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় খুলনায় গ্যাস সরবরাহে পেট্রোবাংলা অতি দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করলে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ প্রয়োজনে সর্বস্তরের নাগরিকদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।