অতিদরিদ্র বলেই পড়ালেখা করানো সম্ভব হচ্ছিল না। তাই রুহানিকে বিয়ে দিয়েছিলেন বাবা। এইচএসসি পাস করার পর তাঁর বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর সংসার বেশিদিন টেকেনি।
স্বামীর অর্থের চাহিদা পূরণ করতে না পারায় তাঁকে ডিভোর্স দেন। এরপর রুহানি চলে আসেন বাবার বাড়িতে। আগে থেকেই অভাবের সংসার। অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করে কোনো রকম সংসার চলত তাঁদের।
রুহানিই ছিলেন বড় মেয়ে। দ্বিতীয় বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আবারও লেখাপড়া করতে চান। কিন্তু বাবার দরিদ্রতার কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না।
অভাবে সংসারে কিভাবে লেখাপড়ার খরচ জোগান দেবেন বাবা। নিজের পাঁয়ে দাঁড়াতে চান রুহানি। পড়াশোনা করে ভালো চাকরি পেয়ে বাবার সংসারে সহযোগিতা করতে চান। এই আশা নিয়ে আবারও কলেজে ভর্তি হন। বর্তমানে ড. এনামুল হক কলেজে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্রী তিনি।
বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে একটি কাজ খুঁজছিলেন। এর মধ্যেই হঠাৎ আশার আলো হয়ে পাশে দাঁড়াল বসুন্ধরা শুভসংঘ। সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রুহানিকে বিনা মূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরপর বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে একটি সেলাই মেশিন পান তিনি। সেলাই মেশিন পেয়ে যেন তাঁর জীবনের সব হিসাব পাল্টে যায়। তিনি এখন স্বপ্ন দেখছেন সেলাইয়ের কাজ করে পড়ালেখার খরচ চালাবেন। পাশাপাশি বাবার সংসারে সহযোগিতা করবেন। রুহানি আক্তার বলেন, ‘নতুন করে পড়ালেখার সাহস জুগিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। তাদের দেওয়া সেলাই মেশিন এখন আমার পড়ালেখা চালিয়ে নেওয়ার অস্ত্র। এখন আর বাবা বিয়ের কথা বলেন না। ভালো করে পড়তে বলেন। একটি চাকরি করতে বলেন। বসুন্ধরা শুভসংঘ আমার এই পথ তৈরি করে দিয়েছে। বসুন্ধরা গ্রুপের মাননীয় চেয়ারম্যান আমাকে আলোর পথ দেখিয়েছেন। আমি সারা জীবন তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব।’