চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়েছে ভারত। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই আধিপত্য বিস্তার করেছে রোহিত শর্মার দল। এই ম্যাচে ভারতের দুই তারকা ক্রিকেটার রোহিত শর্মা ও মোহাম্মদ শামি অনন্য দুই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।
রোহিতের ব্যাটে ইতিহাস
বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে মাত্র ১৩ রান করতেই ওয়ানডেতে ১১ হাজার রান পূর্ণ করেন রোহিত শর্মা। ওয়ানডে ইতিহাসে মাত্র ১০ জন ব্যাটসম্যান এই কীর্তি গড়েছেন। সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলে ১১ হাজার রানের ক্লাবে ঢোকার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দ্রুততম ব্যাটার এখন রোহিত।
ভারতের হয়ে বিরাট কোহলি ২২২ ম্যাচে ১১ হাজার রান করেছিলেন। রোহিত শর্মার সময় লেগেছে ২৬১ ম্যাচ। অন্যদিকে, শচীন টেন্ডুলকারের লেগেছিল ২৭৬ ম্যাচ, আর রিকি পন্টিং করেছিলেন ২৮৬ ইনিংসে।
অধিনায়ক হিসেবেও রোহিত অনন্য
এই ম্যাচের জয় নিয়ে সব ফরম্যাট মিলিয়ে ১০০তম জয় পেলেন রোহিত শর্মা। এর ফলে অন্তত ১০০ ম্যাচ জেতা অধিনায়কদের মধ্যে সর্বোচ্চ জয়ের হার এখন রোহিতের। ১৩৭ ম্যাচে ৭৩% জয় তুলে নিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিকি পন্টিংয়ের জয় হার ৬৭.৯০%। আর স্টিভ ওয়াহ’র জয় হার ৬৬.২৫%।
শামির বিধ্বংসী বোলিং ও ২০০ উইকেটের মাইলফলক
বাংলাদেশের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন মোহাম্মদ শামি। ৫ উইকেট শিকার করে দলের জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি ওয়ানডেতে ২০০ উইকেট পূর্ণ করেছেন এই পেসার।
মাত্র ১০৩ ইনিংসে ২০০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন শামি। সব মিলিয়ে ১০৪ ওয়ানডে ম্যাচে তার ঝুলিতে এখন ২০২ উইকেট।
ম্যাচ শেষে শামি বলেন, "আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা। আমার স্কিলের প্রতি বিশ্বাস ছিল। ফর্ম হারালে কীভাবে ফিরে পাওয়া যায়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি নিজের সেরাটা দেওয়ার। ৮-৯ ঘণ্টা ধরে ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে (এনসিএ) পরিশ্রম করেছি, যার ফল এখন পাচ্ছি।"
চোট কাটিয়ে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, "১৪ মাস পর আগের ফর্মে ফেরা কঠিন ছিল। ঘরোয়া ক্রিকেটে কয়েকটি ম্যাচ খেলে আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। এখন দলের জন্য ভালো করতে পারছি, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।"
বাংলাদেশকে হারানোর পর পরবর্তী ম্যাচে ভারতের প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান। এই ম্যাচ নিয়ে শামি বলেন, "ম্যাচ জিতলে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক ম্যাচ হোক বা আইসিসি টুর্নামেন্ট, নিজের স্কিলের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। তাহলেই সেরা পারফরম্যান্স দেওয়া সম্ভব।"
বিডি প্রতিদিন/আশিক