ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণচাঞ্চল্য নেই। সার্চ কমিটি গঠনের পর কয়েকটি ফেডারেশনের পরিবর্তন এসেছে। অ্যাডহক কমিটি গঠনের পরও তেমন কর্মসূচি নেই। এর মধ্যেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলে এসেছে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ঢাকা ছাড়ার আগে শিরোপা জয়ের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে গিয়েছিলেন। অথচ চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। গ্রুপে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের কাছে শোচনীয় হার মেনেছে। ভাগ্যক্রমে বৃষ্টিতে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় পাকিস্তানের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নিয়েছে। ক্রিকেটই দেশের আশা ভরসার প্রতীক। অথচ যে বেহাল দশা চলছে তাতে শঙ্কা জেগেছে ফুটবলের মতো ক্রিকেটও না হতাশায় বন্দি হয়ে যায়।
আন্তর্জাতিক আসরে ফুটবল কোনোভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। তারপরও দর্শকদের আগ্রহের কমতি থাকে না। ফুটবল যে বাঙালির প্রাণের খেলা। এখানে কি অভিমান করে থাকা যায়। এবার স্বাধীনতার মাসে বাংলাদেশের ফুটবল ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। এতটা তুঙ্গে যে, অতীতে আর কখনো দেখা যায়নি। ২৫ মার্চ শিলংয়ে এশিয়ান কাপ বাছাই গ্রুপে বাংলাদেশের ম্যাচ ভারতের বিপক্ষে।
স্বাধীনতার পর বিভিন্ন আসরে দুই দেশের জাতীয় দল অসংখ্যবার মুখোমুখি হয়েছে। কিন্তু ২৫ মার্চের মতো গুরুত্ব ও আগ্রহ কখনো হয়নি। পরিসংখ্যানে বাংলাদেশ তো বেশ পিছিয়ে। ভারতই অধিকাংশ ম্যাচ জিতেছে। তাহলে তো আগ্রহ থাকার কথা ছিল না। তারপরও এ ম্যাচ ঘিরে বাংলাদেশের তই সইছে না কেন?
অবাক হলেও সত্য। যত আগ্রহ একজনকে নিয়েই। আর তা হামজা চৌধুরী। জামাল ভূঁইয়া ও তারিক কাজী প্রবাসী ফুটবলার হিসেবে এখনো বাংলাদেশে খেলছেন। ইতালি প্রবাসী ফুটবলার ফাহমেদুল ইসলাম ভারতের বিপক্ষে খেলতে ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন। গতকাল তিনি সৌদিতে কন্ডিশনিং ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। তবে সব ছাপিয়ে আলোচনা শুধু হামজাকে নিয়ে। ২৫ মার্চই তার অভিষেক হবে ভারতের বিপক্ষে। বিশ্ব ফুটবলে তেমন পরিচিত মুখ না হলেও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে হামজা অনেক বড় তারকা। এফএ কাপ, কমিউনিটি শিল্ড জেতা ফুটবলার। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা ফুটবলার দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশে খেলবে তা স্বপ্নেও ভাবা যায়নি। বাংলাদেশ সত্যিই ভাগ্যবান। তার মা বাংলাদেশি বলে হামজা বাংলাদেশে খেলার ছাড়পত্র পেয়েছেন।
হামজা বাংলাদেশের জার্সি পরে মাঠে নামবেন। তার মতো বিখ্যাত খেলোয়াড় যখন খেলবেন তখন তো জয়ের আশা করা যেতেই পারে। তবে সতীর্থরা তার সঙ্গে মানিয়ে খেলতে পারবেন কি না সেটাও প্রশ্ন। ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ কখনো জিততে পারেনি। সেদিন যদি ভারত জয় করা যায়। আর হামজার পা বা হেড থেকে যদি গোল আসে, তাহলে স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন উৎসবে মাতোয়ারা হয়ে যাবে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। হামজা যেদিন ছাড়পত্র পেলেন, সেদিন থেকে ২৫ মার্চ গুরুত্ব হয়ে উঠল। ২৫ মার্চ আবার বাংলাদেশের বেদনার দিন। ১৯৭১ সালে এ দিনে পাকিস্তান আর্মিরা হত্যার কাজ শুরু করে দেয়। ২৫ মার্চ কাল রাত বলেই পরিচিত। ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ আলো ঝলমল হয়ে উঠতে পারে। যদি ভারত হারে। ভারতকে ধরাশায়ী করাটা যে অন্য রকম আনন্দ। আর একটা জয়ই পাল্টে দিতে পারে দেশের ফুটবল।