শিরোপা জয়; চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের টার্গেট। দুবাই যাওয়ার আগে মিডিয়াকে দলের টার্গেট নিয়ে এমনই জানিয়েছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। মূল মঞ্চে নামার আগে গতকাল আইসিসি ক্রিকেট একাডেমি মাঠে অনুশীলন করেন নাজমুলরা। দুবাইয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি ভারত ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে নাজমুল বাহিনীর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মিশন। গ্রুপের পরের দুটি ম্যাচ পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে। ২৪ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ড এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ। আসর শুরু ১৯ ফেব্রুয়ারি। অধিনায়ক নাজমুলের টার্গেট শিরোপা। প্রতিপক্ষ তিন চ্যাম্পিয়ন। শক্তিশালী তিন প্রতিপক্ষকে টপকে সেমিফাইনাল খেলতে কমপক্ষে ২ ম্যাচ জিততেই হবে টাইগারদের। কঠিন টার্গেটকে বাস্তব ফরম্যাটে ফেলতে ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স খুবই জরুরি নাজমুল বাহিনীর। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের অভাবই টাইগারদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। পরিসংখ্যান তেমনই বলছে।
চলতি বছর এখনো কোনো ওয়ানডে খেলেনি বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে ৯ ম্যাচে জয় ৩ এবং হার ৬। ২০২৩ সালে ৩২ ওয়ানডেতে ১১ জয়ের বিপরীতে হার ১৮টি। ৩টি ম্যাচে ফল হয়নি। ২০২২ সালে ১৫ ম্যাচে ১০ জয় এবং হার ৫টি। তিন বছরে ৫৬ ম্যাচে জয় ২৪ এবং হার ২৯টি। পরিসংখ্যান বলছে অধারাবাহিকতার কথা।
টাইগার অধিনায়কের টার্গেট শিরোপা। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং আইসিসির এক পডকাস্টে জানিয়েছেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের ভালো করার সুুযোগ নেই, ‘আমার ধারণা বাংলাদেশকে সংগ্রাম করতে হবে। দলটিতে সেরকম মান আছে বলে মনে হচ্ছে না। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অন্য দলগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে।’ বিসিবি পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম উড়িয়ে দিয়েছেন পন্টিংয়ের মন্তব্য, ‘গত চার-পাঁচ মাসে বাংলাদেশ দলের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। যেটা রিকি পন্টিং হয়তো দেখেননি বা ধারণা করতে পারবেন না।’ সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল নেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি স্কোয়াডে। আওয়ামী সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের জার্সিতে খেলা হচ্ছে না সাকিবের। অবসর নিয়েছেন তামিম। এ ছাড়া দলে রয়েছেন আরও দুই অভিজ্ঞ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম। দুজনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলেছেন। এই দুজন ছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলেছেন সৌম্য সরকার, মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ। ১৫ সদস্যের টাইগার স্কোয়াডের বাকিরা এই প্রথম খেলবেন আসরে। অধিনায়ক নাজমুল শান্ত ৪৭ ওয়ানডেতে ৩ সেঞ্চুরিতে ১৪৮৮ রান করেছেন। এই প্রথম খেলবেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে টাইগারদের ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে সিনিয়র দুই ক্রিকেটার মাহমুদুল্লাহ ও মুশফিক। ৩৭ বছর বয়সি মুশফিক ২৭২ ম্যাচে রান করেছেন ৯ সেঞ্চুরিতে ৭৭৯৩। ৩৯ বছর বয়সি মাহমুদুল্লাহর রান ২৩৮ ম্যাচে ৪ সেঞ্চুরিতে ৫৬৮৫। সহঅধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ এবারই প্রথম খেলবেন চাম্পিয়ন্স ট্রফি। ১০৩ মাচে ২ সেঞ্চুরিতে ১৫৯৯ রান ছাড়াও উইকেট নিয়েছেন ১১০টি। বাঁ হাতি ওপেনার সৌম্য ৭৫ ম্যাচে ৩ সেঞ্চুরিতে ২১৯৮ রান করেন। ওপেনে তার সঙ্গী পারভেজ হোসেন ইমন ও তানজিদ তামিম। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নাজমুল বাহিনীর সাফল্যের অনেকটাই নির্ভর করবে তানজিদের ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ের ওপর। ছন্দে থাকা দারুণ আগ্রাসী তানজিদের রান ২১ ম্যাচে ৪১৩। মিডল অর্ডারের ভরসা তাওহিদ হৃদয়ের রান ৩২ ম্যাচে ৮৭৭। জাকের আলি ৫ ম্যাচে ১৫১ রান করেন। পেস স্কোয়াডের মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলেছেন। নাহিদ রানা ও তানজিদ সাকিব এই প্রথম খেলবেন। স্পিনে মিরাজের সঙ্গী লেগ স্পিনার রিশাদ ও বাঁ হাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। মুস্তাফিজের উইকেট ১০৭ ম্যাচে ১৭২টি। তাসকিনের উইকেট ৭২ ম্যাচে ১০৯টি। নাহিদ ৩ ম্যাচে ৪টি এবং তানজিদ সাকিবের উইকেট ৯ ম্যাচে ৯টি। রিশাদের উইকেট ৭ ম্যাচে ৫টি ও নাসুমের ১৮ ম্যাচে ১৬টি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এবার ষষ্ঠবার খেলবে বাংলাদেশ। আগের ৫ আসরে ১২ ম্যাচ খেলে জিতেছে সাকল্যে ২টি। এবার কঠিন প্রতিপক্ষ। জয় পেতে পারফরম্যান্সের সর্বোচ্চ ধারাবাহিকতা রাখতে হবে নাজমুল বাহিনীকে।