যুগে যুগে ঘরোয়া ফুটবলে শক্তির উত্থানপতন ঘটেছে। ১৯৪৮ সালে শুরুর পর ওয়ান্ডারার্স ও ভিক্টোরিয়ার দাপট ছিল তুঙ্গে। আজাদ স্পোর্টিংও সমানতালে লড়ে গেছে। ওই সময়ে এ তিন দলকে প্রধান দল বলে চিহ্নিত করা হতো। এখন তারা কালের সাক্ষী। লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়া এ তিন দল কোনোক্রমে টিকে আছে। ওয়ান্ডারার্স বর্তমানে পেশাদার লিগে আছে। ভিক্টোরিয়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেললেও ঐতিহ্যবাহী আজাদ অনেকটা বিলুপ্তির পথে। ১৯৫৭ সালে ঢাকা মোহামেডান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরই পরিচিত হয়ে ওঠে। মোহামেডান, ওয়ান্ডারার্স ও করপোরেট দল ইপিআইডিসিকে তখন শক্তিশালী বা তিন প্রধান বলা হতো। স্বাধীনতার পর পাল্টে যায় দৃশ্য। ১৯৭২ সালে আবাহনী ক্রীড়া চক্রের অভিষেকের পর ওয়ান্ডারার্সের পাত্তাই ছিল না। মোহামেডান, আবাহনী ও বিআইডিসি (সাবেক ইপিআইডিসি) তিন প্রধান হয়ে ওঠে। ১৯৭৫ সালে ব্রাদার্স ইউনিয়নের আবির্ভাবের পর সেটিও জনপ্রিয় দলে পরিণত হয়। ২০০৪ সালে প্রথমবারের মতো লিগে চ্যাম্পিয়ন হলেও ১৯৭৬ সাল থেকে বিজেআইসির বদলে ব্রাদার্সকেই তিন প্রধানের মধ্যে ফেলা হতো। দীর্ঘ সময় ধরে মোহামেডান, আবাহনী ও ব্রাদার্সের দাপট ছিল তুঙ্গে। শক্তিশালী দল গড়ার পর মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া সংসদ লিগ ও ফেডারেশন কাপে চ্যাম্পিয়ন হলেও তাদের প্রধান দলের তালিকায় ফেলা যায়নি।
তিন প্রধান বলা হলেও আশির দশকের পর থেকে ঘরোয়া ফুটবলকে দুই প্রধানকেন্দ্রিক বললেও ভুল হবে না। হয় মোহামেডান না হয় আবাহনীই শিরোপা জিতে চলছিল। পেশাদার লিগ মাঠে গড়ানোর পর আসর ছিল দুই প্রধানকেন্দ্রিক।
প্রথম তিন আসরে আবাহনী চ্যাম্পিয়ন ও মোহামেডান রানার্সআপ হয়েছিল। এরপর মোহামেডান দুর্বল দলে পরিণত হলে শেখ জামাল ধানমন্ডি তিনবার ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র একবার চ্যাম্পিয়ন হলেও ঢাকা আবাহনীই মূলত একক রাজত্ব করছিল। সে রাজত্বে ভাঙন ধরায় বসুন্ধরা কিংস। অভিষেকেই লিগ জিতে পেশাদার ফুটবলে আবাহনীর দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নের আশা নস্যাৎ করে দেয়।
বসুন্ধরা কিংস ইতিহাস গড়া টানা পাঁচবার লিগ জিতে রাজার নতুন আসনে বসেছে। কিংস আগমনের পরও লিগ ছিল দুই প্রধানকেন্দ্রিক। কারণ, কিংসের সঙ্গে শিরোপা লড়াইয়ে আবাহনীই শুধু টিকে ছিল। চলতি লিগে কিংস ও আবাহনীর পাশাপাশি শক্তিশালী রূপে ফিরে এসেছে মোহামেডান। গতবার তারা তিন আসরেই আবাহনীকে পেছনে ফেলে রানার্সআপ হয়েছে। প্রশ্ন উঠতে পারে, যে মোহামেডান প্রায় দুই যুগ শিরোপা খরায় ভুগছে তাদের তিন প্রধান বলা যায় কি না? দলটি মোহামেডান বলেই যত কথা। অতীত সাফল্য তো আছে, তারপর আবার এবার পেশাদার লিগে শিরোপা জয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথম লেগে তারা নয় ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে। আবাহনী ৪ ও বসুন্ধরা কিংস তাদের চেয়ে ৭ পয়েন্টে পিছিয়ে আছে।
অনেকদিন পর ত্রিমুখী শিরোপা লড়াইয়ের দেখা মিলেছে। এতে লিগ হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বড় কোনো অঘটন না ঘটলে এ তিন দলের মধ্যেই শিরোপা লড়াই টিকে থাকবে।
অন্যদিকে সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই যত চাপ এখন তিন প্রধানের। ২১ ফেব্রুয়ারি মাঠে গড়াবে দ্বিতীয় লেগ। যদিও ২২ ফেব্রুয়ারি দশম রাউন্ডের পর লিগ ৪৭ দিন বন্ধ থাকবে। যা-ই হোক শিরোপার আসল লড়াই দ্বিতীয় লেগ থেকে। শিরোপা রেসে টিকে থাকা তিন ক্লাবই শক্তি বাড়াতে নতুন বিদেশি উড়িয়ে আনবে। তিন প্রধান নয়, শিরোপা লড়াইয়ে আরও দল এলে পেশাদার লিগের আকর্ষণ দিনদিন বাড়বে। দেশের ফুটবলে অক্সিজেন যে পেশাদার লিগই।