‘এলিমিনেটর’ ম্যাচের সমীকরণ বিপিএলের সবচেয়ে কঠিন ও জটিল। জিতলে টিকে থাকবে আসরে। বেঁচে থাকবে ফাইনাল খেলার স্বপ্ন। হারলে বিদায়। এমন জটিল সমীকরণের ম্যাচ খেলতে আজ দুপুর দেড়টায় মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে এলিমিনেটর ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স ও প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখা খুলনা টাইগার্স। খুলনা অবশ্য ২০১৯-২০ মৌসুমে ফাইনাল খেলেছিল। এলিমিনেটর ম্যাচটি দুই দলের জন্য জীবন বাজির ম্যাচ। দুই দলই জয়ের জন্য খেলবে। জয়ী দল ৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হবে প্রথম কোয়ালিফায়ারে ফরচুন বরিশাল-চিটাগং কিংস ম্যাচের পরাজিত দলের বিপক্ষে। প্রথম কোয়ালিফায়ারের জয়ী দল ৭ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল খেলবে। এলিমিনেটর জয়ী দলের ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা টিকে থাকবে। এজন্য দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে প্রথম কোয়ালিফায়ারের পরাজিত দলের বিপক্ষে জিততে হবে।
দেশের বাইরে শিরোপাজয়ী একমাত্র দল রংপুর রাইডার্স। ওয়েস্ট ইন্ডিজের গায়ানায় পাঁচ দলের টি-২০ টুর্নামেন্ট গ্লোবাল সুপার লিগ (জিএসএল) জিতেছেন নুরুল হাসান সোহানরা। জিএসএল জেতার আত্মবিশ্বাস নিয়ে দলটি বিপিএল শুরু করে। টানা ৮ ম্যাচ জিতে সবার আগে প্লে-অফ নিশ্চিত করে রংপুর। টানা আট জয়ের পর হঠাৎ ছন্দ হারিয়ে ফেলে। টানা ৪ ম্যাচ হেরে এলিমিনেটর পর্ব খেলছে দলটি। অথচ গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে যদি খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে জিতলে কোয়ালিফায়ার খেলত। আবার লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে ফরচুন বরিশাল যদি না হারত চিটাগং কিংসের কাছে, তাহলেও কোয়ালিফায়ার খেলত রংপুর। সেসব কিছুই হয়নি। ফলে চিটাগংয়ের সমান ১৬ পয়েন্ট পেয়েও রানরেটে এলিমিনেটর পর্ব খেলতে হচ্ছে সোহানদের।
ফাইনালের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখার ম্যাচটি রংপুর খেলছে দলের সেরা পারফর্মার খুশদিল শাহকে ছাড়া। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার জন্য পাকিস্তানের প্রাথমিক স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন খুশদিল। অথচ তার সঙ্গে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চুক্তি ছিল রংপুরের। খুশদিল না থাকায় একজন অলরাউন্ডারের অভাব পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে। কোয়ালিফায়ারের জন্য রংপুর পাঁচ বিদেশির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই তারকা ক্রিকেটার আন্দ্রে রাসেল ও সুনিল নারিন এবং অস্ট্রেলিয়ার দুই তারকা ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নার ও টিম ডেভিডস অন্যতম। আইএল টি২০ টুর্নামেন্টের দিকে তাকিয়ে রংপুর। টুর্নামেন্টে আবুধাবি নাইট রাইডার্সে খেলছেন। যদি দলটি জিতে যায়, তাহলে দুই ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার নারিন ও রাসেলকে পাবে না সোহান বাহিনী। হেরে গেলে ঢাকায় আসবেন দুই ক্রিকেটার।
এলিমিনেটর ম্যাচটি দুই দলের জন্য ‘জীবন-মরণ’ ম্যাচ। জয়ের বিকল্প নেই। রংপুরের অন্যতম সেরা পারফর্মার স্পিন অলরাউন্ডার শেখ মেহেদি হাসান মিডিয়ার মুখোমুখিতে স্পষ্ট করেছেন তারা আত্মবিশ্বাসী জয়ের বিষয়ে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্রিকেটাররা আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’ রংপুর ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন। গত দুই আসরের প্লে-অফ খেলেছে। এবার সোহান বাহিনী স্বপ্ন দেখছে ফাইনালের। গতকাল মিডিয়ার মুখোমুখিতে শেখ মেহেদি বলেন, ‘গত দুই আসরে কোয়ালিফায়ার খেললেও ফাইনাল খেলতে পারিনি। চলতি বছর আবার সুযোগ এসেছে। আমরা অতীতের ব্যারিয়ার ভেঙে ফাইনাল খেলতে চাই। এটা ঠিক, আগামীকালের (আজকের) ম্যাচটি ভীষণ ক্রুসিয়াল।’
রংপুরের মূল পারফর্মার ছিলেন খুশদিল। ব্যাটিংয়ে ১০ ম্যাচে ২৯৮ রান ছাড়াও উইকেট নেন ১৭টি। তার শূন্য স্থান পূরণ করতে পারছেন না কেউ। ইনজুরি কাটিয়ে সৌম্য সরকার ফিরলেও বড় কোনো ইনিংস খেলতে পারেননি। সাইফ হাসান রয়েছেন ছন্দে। রান করেছেন ১২ ম্যাচে ৩০২। পাকিস্তানের ইফতেখার আহমেদ, অধিনায়ক সোহানও প্রয়োজনীয় মুহূর্তে রান করছেন। বোলিংয়ে পাকিস্তানি পেসার আকিফ জাভেদ ১০ ম্যাচে ১৯ উইকেট, সাইফুদ্দিন ১২, মেহেদি ও নাহিদ রানা ১০টি করে উইকেট নিয়েছেন। রংপুর আসরে যে চারটি ম্যাচ হেরেছে। একটি খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে ৪৬ রানে, চিটাগং কিংসের বিপক্ষে ৫ উইকেটে এবং দুর্বার রাজশাহীর বিপক্ষে যথাক্রমে ২৪ ও ২ রানে হেরেছে।