মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বয়স ৩৮। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে এখনো খেলছেন। শুধু খেলছেন বললে ভুল হবে, চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স করে সব আলো কেড়ে নিয়েছেন। অথচ ছন্দে থাকার পরও দেশের অন্যতম সেরা হকি খেলোয়াড় রাসেল মাহমুদ জিমিকে জাতীয় দলের স্কোয়াডে রাখা হয়নি। দেশের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারকে বাদ দেওয়ার সরাসরি কারণ হিসেবে হকি ফেডারেশন সুনির্দিষ্ট কিছু জানায়নি। অবশ্য ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) রিয়াজুল হাসান জানিয়েছেন, ৩২-৩৩ বছরের বেশি বয়সি খেলোয়াড়কে তারা জাতীয় দলের জন্য বিবেচনা করছেন না। পারফরম্যান্স নয়, বয়সটাকেই বড় করে দেখছে হকি ফেডারেশন। হকি ফেডারেশনের এমন সিদ্ধান্তকে কোনোভাবেই মানতে পারছেন না দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা হকি খেলোয়াড় রফিকুল ইসলাম কামাল। সাবেক স্ট্রাইকার বলেন, ‘এটা ঠিক, বয়স হলে খেলোয়াড়দের ছন্দে ফিরতে একটু সময় লাগে। তাই বলে দল গঠনে পারফরম্যান্স নয়, বয়সকে প্রাধান্য দিতে হবে। এটা ঠিক নয়। আমি মনে করি দল গঠনে অবশ্যই বয়স নয়, পারফরম্যান্সই মুখ্য।’
রাসেল মাহমুদ জিমির বয়স ৩৭। এখনো জাতীয় দলের সেরা স্ট্রাইকার। এতদিন অপরিহার্য খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছেন জাতীয় হকি দলে। চলতি বছরের এপ্রিলে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান হকি ফেডারেশন কাপ। সেই টুর্নামেন্টের দল গঠনের জন্য ২০ ফেব্রুয়ারি মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে খেলোয়াড়দের কুপার টেস্ট করবে ফেডারেশন। সেই স্কোয়াডে ডাক পাননি জিমি। এরপর থেকেই আলোচনায় উঠে আসে বয়সের বিষয়টি। পৃথিবীর কোথাও পারফরম্যান্সকে পেছনে ফেলে বয়সকে প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। এমনকি দেশের ফুটবল কিংবা ক্রিকেটেও বয়স ব্যারিয়ার হতে পারেনি দল গঠনে। যদি কোনো ফুটবলার বা ক্রিকেটার বাদ পড়েছেন, তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে বয়স নয়, ফিটনেস কিংবা ছন্দহীন পারফরম্যান্সের জন্য। লিটন দাসের বয়স কম হওয়ার পরও বাদ পড়েছেন ছন্দে নেই বলে। আবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েছেন ৩৮ বছর বয়সি মাহমুদুল্লাহ, শুধু পারফরম্যান্সের জন্য। এসব মাথায় রেখে সাবেক হকি খেলোয়াড় রফিকুল কামাল বলেন, ‘বয়সের জন্য জাতীয় দলে নেওয়া হয়নি, এর আগে এমনটি কখনো দেখিনি। জিমি ছন্দে রয়েছেন। বয়স বেশি বলে তাকে নেওয়া হয়নি, এটা খোঁড়া যুক্তি। এমন সিদ্ধান্ত দেশের হকিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বাধাগ্রস্ত হবে। আমি আবারও বলব, দল গঠনে বয়স নয় পারফরম্যান্সকে প্রাধান্য দিতে হবে।’