গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, আওয়ামী লীগ যদি কখনো ক্ষমতায় আসতে পারে, তাহলে এ গণঅভ্যুত্থানকে ষড়যন্ত্র এবং দেশদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করবে। এজন্য অনেককে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। বিএনপির বিকল্প যদি কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক দল গড়ে না ওঠে, আবারও আওয়ামী লীগের আসার সুযোগ থাকবে। আওয়ামী লীগকে কামব্যাক করানোর জন্য ভারত হাজার হাজার কোটি টাকা ইনভেস্ট করবে। কাজেই আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। আওয়ামী লীগকে এদেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া যাবে না।
রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখ সারির আহত ছাত্র-জনতার উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে আহত এবং নিহতদের পরিবারের পুনর্বাসন, রাষ্ট্রীয় সম্মাননা, মাসিক ভাতা ও সুচিকিৎসার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, এখনো কেউ টের পাচ্ছেন না। কেউ দল গঠন নিয়ে ব্যস্ত, আবার কেউ ধান্দা নিয়ে ব্যস্ত। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে আছেন। অথচ যে ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করলাম, সেই গণহত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে কোনো দলের আওয়াজ নেই। বরং সবাই তাদের রাজনৈতিক স্পেস দিতে চায়। আগামী নির্বাচনে সুযোগ দিতে চায়।
তিনি বলেন, দেশকে ভালো রাখতে হলে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করতে হবে। আমাদের নিজের ভালোর জন্য এ সরকারকে আরও কিছুদিন রাখতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা ছিল সরকার ছোট ছোট কিছু জায়গায় তাৎক্ষণিক কিছু ভূমিকা নেবে। তড়িৎ অ্যাকশন নেবে। সেটি কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আজকে সাড়ে পাঁচ মাসে কেন আহতদের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে।
মানববন্ধনে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখসারির আহত ও নিহত পরিবারের পক্ষ থেকে নয় দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো-
১. আগামী এক সপ্তাহের (১৯ জানুয়ারি) মধ্যে আহত ও নিহতদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তাদের পরিচয়পত্র (স্মার্ট কার্ড) প্রদান করতে হবে।
২. আহতদের দ্রুত সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে (দেশে/ বিদেশে)। গণঅভ্যুত্থানে আহতদের আজীবন বিনামূল্যে সরকারিভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. ২০২৪ গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি ও নিহতের পরিবারকে সরকারিভাবে মাসিক সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি ও নিহত পরিবারকে দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি বা নিহত ব্যক্তির পরিবারকে পরবর্তী কোনো সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা রাজনৈতিকভাবে কোনো হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দেওয়া যাবে না, এ মর্মে আইন পাস করতে হবে।
৬. জটিলতা নিরসন করে শহীদ জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে আহত ও নিহতদের পরিবারকে দ্রুত সহায়তা প্রদান করতে হবে।
৭. জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে হবে।
৮. ২৪ গণঅভ্যুত্থানের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে।
৯. সব দাবিগুলো সরকারিভাবে লিপিবদ্ধ করে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন কবি নজরুল সরকারি কলেজের আহত শিক্ষার্থী মো. তৌফিক শাহারিয়ার। সঞ্চালনা করেন মো. আল-আমীন ও রেজাউল করিম রেজা।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহীদুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দিন, বুয়েটের এআরআই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আরমানা সাবিহা হক, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি সমন্বয়ক নাজমুল হাসান।
বিডি প্রতিদিন/কেএ