গাজীপুরে আওয়ামী ‘সন্ত্রাসী’দের হামলায় আবুল কাশেম নামের এক শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে কফিন মিছিল বের করেছে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা। গতকাল রাত সোয়া ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কাশেমের জানাজা সম্পন্ন হয়। এর পর লাশের কফিন নিয়ে শাহবাগের দিকে মিছিল বের করা হয়। এর আগে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। কর্মসূচি অনুযায়ী সারা দেশের প্রত্যেক জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নে, গ্রামে শহীদ আবুল কাশেমের গায়েবানা জানাজা এবং আওয়ামী লীগের বিচার ও নিষিদ্ধের দাবিতে খাটিয়া মিছিল করা হবে। জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, গাজীপুরে অভ্যুত্থানের ছয় মাস পরে আমাদের ভাইকে কুপিয়ে শহীদ করা হলো। আমরা কিছুই করতে পারলাম না। লাশ সামনে নিয়ে বিগত দিনের ফ্যাসিবাদকে মনে পড়ছে। যে আওয়ামী লীগ আমার ভাইকে শহীদ করেছে সেই আওয়ামী লীগ এ দেশে রাজনীতি করার বিন্দু পরিমাণ অধিকার রাখে না। শহীদের লাশের শপথ করে বলছি, শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাব। তিনি বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। হাসিনা সেই ফ্যাসিবাদের ধারা বজায় রেখে জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে গণহত্যা হয়েছে। তাই, এই মাটিতে আওয়ামী লীগের বিচার করতে হবে, আওয়ামী লীগের রাজনীতি চিরতরে নিষিদ্ধ করতে হবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তি কাজে লাগিয়ে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করতে হবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আরিফ সোহেল বলেন, আজ স্বাধীনতার ছয় মাস পরেও বিপ্লবীদের শহীদ হতে হচ্ছে, অন্তর্র্বর্তী সরকারকে এর জবাব দিতে হবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আজকে আয়নাঘর প্রকাশিত হয়েছে, আজকেই অভ্যুত্থান বিষয়ক জাতিসংঘের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, আজকেই আমাদের ভাই শহীদ হলেন। বিপ্লবী ভাইয়ের শাহাদাত আমাদের ব্যর্থতা। আমরা এতদিন পর্যন্ত সুবিচার নিশ্চিত করতে পারিনি, আমরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে পারিনি।
আবুল কাসেমের বাড়িতে শোকের মাতম
গাজীপুর প্রতিনিধি : গতকাল বিকালে আবুল কাসেমের মৃত্যুর খবর তার বাড়ি সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ খাইলকৈর এলাকায় পৌঁছলে সেখানে শুরু হয় শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনরা বাড়িতে এসে ভিড় জমাতে থাকেন। তারা কাশেম হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।