জাতীয় সংসদের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫০-এর বেশি আসনের সীমানা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। বিগত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ১০ আসনে পরিবর্তন আনা হলেও অধিকাংশ আসনে এখনো জটিলতা রয়েই গেছে। ইসির হিসাবে আসন সংশোধনের জন্য এখন পর্যন্ত ৪১টি সংসদীয় আসনে ২৪৮টি সীমানা সংক্রান্ত আবেদন এসেছে। এর আগে ১৯৮৪ ও ১৯৯১ সালের পর ২০০৮ সালে ড. এ টি এম শামসুল হুদা কমিশন নবম সংসদ নির্বাচনের জন্য শতাধিক আসনে সীমানা পরিবর্তন আনে। এর পর কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ কমিশন দশম সংসদ নির্বাচনে ৫০টি আসনে ছোটখাটো পরিবর্তন আনে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল ২৫টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন এনে গেজেট প্রকাশ করে।
এবার সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার আগেই সংসদীয় আসনের সীমানা জটিলতা নিরসনে ৪১টি সংসদীয় আসন নিয়ে ২৪৮টি সীমানা সংক্রান্ত আবেদন জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। এর মধ্যে কুমিল্লা, গাইবান্ধা, পিরোজপুর, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার কিছু আসন নিয়ে বেশি আবেদন এসেছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ভৌগোলিক আয়তন, অবস্থা ও অবস্থান এবং সর্বশেষ জনশুমারি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ করা হবে। আমরা জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন-২০২১ নিয়ে আলোচনা করেছি। জানতে পেরেছি বর্তমান আইনে দুটি বিষয় মূলত সমস্যা সৃষ্টি করছে। একটি হলো- জনসংখ্যাকে গুরুত্ব দিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা যেটা প্রস্তাব করতে চাচ্ছি, সেটি হলো ভৌগোলিক আয়তন, অবস্থা ও অবস্থান এবং সর্বশেষ জনশুমারি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সীমানা নির্ধারণের ব্যবস্থা করা। তিনি আরও বলেন, সংস্কার কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকার যে সিদ্ধান্ত দেবে সে অনুযায়ী আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করব।
কুমিল্লা-৯ ও কুমিল্লা-১২ আসন পুনর্বহাল চেয়েছে কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চ। এ ক্ষেত্রে ২০০৮ সালের আগের সীমানায় ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়েছে সামাজিক সংগঠনটি। গাইবান্ধা-৩ আসন তথা সাদুল্যাপুর উপজেলা এলাকাকে একক আসন করার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। দোহার উপজেলা ঢাকা-১ ও নবাবগঞ্জ উপজেলা ঢাকা-২ আসন পুনর্বহাল করার দাবি এসেছে ইসিতে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনেক জেলার আসনে জনসংখ্যার ভারসাম্য নেই। কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ জেলায় রয়েছে ১১টি করে সংসদীয় আসন। কুমিল্লার জনসংখ্যা ৫৩ লাখের বেশি। ময়মনসিংহের জনসংখ্যা ৫১ লাখের বেশি। ৩৬ লাখ জনসংখ্যার টাঙ্গাইলে আছে আটটি আসন। অন্যদিকে গাজীপুরে ৩৪ লাখের বেশি এবং নারায়ণগঞ্জে ২৯ লাখের বেশি জনসংখ্যা থাকলেও উভয় জেলায় সংসদীয় আসন পাঁচটি করে। একইভাবে চুয়াডাঙ্গায় ১১ লাখের বেশি জনসংখ্যায় আসন রয়েছে দুটি।
দেখা গেছে, পঞ্চগড়-১ আসনে ভোটার ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৩ জন। গাজীপুর-১ আসনে ভোটার ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৫২ জন। গাজীপুর-২ আসনে ভোটার ৭ লাখ ৭৯ হাজার ৭৩৬ জন। কুমিল্লা-২ আসনে ভোটার ২ লাখ ৮২ হাজার ৬২২ জন। কুমিল্লা-১০ আসনে ভোটার ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২২ জন। কুমিল্লা-১১ আসনে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৮০৫ জন।
এদিকে চারটি উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-১ আসন। এ আসনে ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলা। এ আসনে ভোটার রয়েছেন ৪ লাখ ৬২ হাজার ৬৯৫ জন। ঠাকুরগাঁও-১ আসন গঠিত হয়েছে শুধু সদর উপজেলা নিয়ে। এ আসনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৮০ হাজার ৬০৪ জন। ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ভোটার ৩ লাখ ১৭ হাজার ৯৬৫। ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে ভোটার হচ্ছে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫৪ জন। কিন্তু এ জেলার রাণীশংকৈল উপজেলাকে ভেঙে ঠাকুরগাঁও-২ ও ৩ আসনে দেওয়া হয়েছে। তথা রাণীশংকৈল উপজেলার ১ লাখ ৪০ হাজার ৫১৬ জন ভোটার ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে। আর ঠাকুরগাঁও-২ আসনে রয়েছেন ৪০ হাজার ৪৫৯ জন ভোটার।