রাজশাহীর বড়কুঠি এলাকায় পানি চলাচলের পথ আটকিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে রাস্তা ও বাঁশের সাঁকো। সেই সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে মানুষ, রিকশা, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী ভ্যান। সেখান থেকে অবৈধভাবে টোল আদায় করা হচ্ছে। বড়কুঠি পদ্মার পাড়ে বসে স্থানীয় দুখু মিয়া জনপ্রতি টোল আদায় করেন ১০ টাকা। এ ছাড়া মোটরসাইকেল ও রিকশার জন্য ২০ টাকা নেন। আর পণ্যবাহী ভ্যানের জন্য দিতে হয় বাড়তি অর্থ। তার কাছ থেকে জানা গেছে, স্থানীয় কয়েকজন মিলে পদ্মায় মাটি ফেলে ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ ও বাঁশের সাঁকোটি বানিয়েছেন। তবে কারা এর সঙ্গে জড়িত বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। তবে তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা ও হরিয়ান ইউপি সদস্য পমেজ উদ্দিন সম্পৃক্ত রয়েছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, রাজশাহী মহানগরীর বড়কুঠি থেকে কিছুটা দূরেই পদ্মার বুকে বিশাল চর জেগেছে। বর্তমানে ওই চরের দক্ষিণ পাশ দিয়ে নদীর মূল স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে। নদীপথে চরাঞ্চলের মানুষ নৌকায় আসেন নতুন জেগে ওঠা চরে। এরপর পায়ে হেঁটে কিছু পথ পাড়ি দিয়ে আসেন বড়কুঠি ঘাটে। সেখানে আসার পর ২০ গজ বাঁশের সাঁকো পাড়ি দিতে হয়।
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান জানান, নদীর পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয় এমন কোনো নির্মাণ আইনত দন্ডনীয়। কিন্তু বড়কুঠি এলাকায় পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে সেখানে সাঁকো বানিয়ে টোল আদায় চলছে। এতে প্রশাসনের সহযোগিতা আছে বলে তিনি মনে করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর জানান, নদীতে পানি চলাচল বন্ধ করে কেউ স্থাপনা নির্মাণ করলে সেটি জেলা প্রশাসনের দেখার কথা। জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার জানান, তার কাছে এমন কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।