রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশন-ইসির নিবন্ধন নিতে যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে, সেগুলো শেষ করে দ্রুত নিবন্ধনের দিকে যাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি। পুরোনো সংবিধান ও শাসন কাঠামো রেখে নতুন বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয় জানিয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকৃত গণতন্ত্রের ধারায় ফিরতে পারে বাংলাদেশ। গতকাল সকাল ৮টায় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এই মুহূর্তে এনসিপির প্রথম লক্ষ্য সাংগঠনিকভাবে তার কার্যক্রম বিস্তৃত করা। নিবন্ধন নিতে যে ধরনের শর্তাবলি পূরণ করা প্রয়োজন, সেগুলো দ্রুত পূরণ করে আমরা নিবন্ধনের দিকে এগোব। এ মাসের মধ্যে গঠনতন্ত্রের কাজ শুরু করব।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, একটি নতুন প্রজাতন্ত্র করতে হবে এবং তার জন্য নতুন সংবিধান এবং গণপরিষদ প্রয়োজন। আমরা সেকেন্ড রিপাবলিক-এর কথা বলেছি। সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, পুরোনো সংবিধান এবং শাসনকাঠামো রেখে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব নয়। কেবল সরকার পরিবর্তন করে জনগণের কল্যাণ ও প্রকৃত গণতন্ত্র সম্ভব নয়। ২৪-এ যে গণ অভ্যুত্থান হয়েছে, ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছে, তাতে কেবল সরকার পরিবর্তন নয়; বরং শাসনকাঠামো ও সাংবিধানিক পরিবর্তন করে নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু করতে চাই। যেখানে প্রকৃত গণতন্ত্র, ইনসাফ ও সাম্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
দেশের মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৯৪৭ থেকে ২০২৪-এর সব লড়াইয়ের আকক্সক্ষা ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করব। ’৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র পেলেও সার্বভৌমত্ব বারবার হুমকির মুখে পড়েছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো বারবার ভেঙে পড়েছে। আমরা গণতান্ত্রিক সংবিধান গড়ে তুলতে পারিনি। একদলীয় সংবিধানের মাধ্যমে ফ্যাসিজম এবং একদলীয় স্বৈরতন্ত্রের বীজ বপন করা হয়েছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে গণ অভ্যুত্থান এবং গত ১৫ বছরে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণ অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার বিচার দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর দেখতে চাই। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ফয়সালা এই বাংলার মাটিতে করতে হবে। গণ অভ্যুত্থানে আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল, যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং ১৫ বছর ধরে নানা ধরনের জুলুম করেছে, তাদের বিচার এই বাংলার মাটিতে হতে হবে। এই বিচার বাংলাদেশের মানুষ দেখতে চায়। বিচারের পর সংস্কার কার্যক্রম করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দ্রুত জাতীয় সংলাপে গিয়ে আমাদের জুলাই সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন আমরা দেখতে চাই।
আখতার হোসেন দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করে বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ শহীদের জীবনের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা এসেছে, যার মূলমন্ত্র ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ। গত ৫৪ বছরে তা অধরা থেকে গেছে। আমরা এনসিপির নেতা-কর্মীরা অঙ্গীকারবদ্ধ, সেই বাংলাদেশ নির্মাণে কাজ করে যাব। বাংলাদেশে আমাদের অনেক প্রস্তাবনার জায়গা রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম, বাংলাদেশ পুরো বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। ঢাকা শহরকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান হিসেবে দেখা। এমন অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমরা এগোচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা বিশ্বাস করি, নতুন একটি সংবিধানের বাস্তবতা রয়েছে। এর ভিত্তিতে আমরা গণপরিষদ নির্বাচনের কথা বলেছি। গণপরিষদ নির্বাচনে যারা জয়ী হবেন, তারা সংসদ সদস্য হিসেবে ভূমিকা পালন করবেন এমন প্রস্তাবনাও আমাদের আছে। অল্প সময়ের মধ্যে সারা দেশে জেলা ও উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি তার সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তৃত করবে বলেও জানান তিনি।
স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে সকাল ১০টায় রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে ২০২৪-এর গণ অভ্যুত্থানের শহীদদের কবর জিয়ারত ও দোয়া মোনাজাতে অংশ নেন এনসিপির নেতারা।