বছর ঘুরে এসেছে ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারি। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাঁদের অমলিন স্মৃতি স্মরণের মাস ফেব্রুয়ারি। বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাংলাভাষী মানুষের জন্য এ মাসটি বরাবরই তাৎপর্যপূর্ণ।
মাতৃভাষা হিসেবে বিশ্ব-ভাষা তালিকায় বাংলার অবস্থান পঞ্চম এবং বহুল ব্যবহৃত ভাষা হিসেবে এর অবস্থান সপ্তম। ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত বাংলায় কথা বলে ২২ কোটির বেশি মানুষ। শুধু বাঙালিই নয়, বাংলা ভাষা শেখার প্রতি আগ্রহ রয়েছে বিশ্বের অন্যান্য দেশের নাগরিকেরও। ব্যবসায়, কূটনীতি, জানার আগ্রহ ও নানান সুবাদে অনেকেই বিভিন্ন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে শিখছেন এ ভাষা।
বাংলাদেশে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বাংলা ভাষা শেখানোর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট অন্যতম।
বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য নিয়ে জানতে এবং জানাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে এলিমেন্টারি কোর্সে বাংলা ভাষা শিখছেন জাপানের ছাত্রী তমাকো কুডো। তাঁর বাংলা ভাষা শেখার প্রতি আগ্রহ ও উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি বিশেষ সাক্ষাৎকারে কথা বলেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে।
তমাকো বলেন, ‘বাংলা ভাষা শেখার এটা আমার দ্বিতীয় বর্ষ। বাংলা শেখাটা আমার জন্য কঠিন ছিল। কারণ জাপানি ভাষার সঙ্গে উচ্চারণে পার্থক্য কম থাকলেও বাংলা ভাষায় যেভাবে কাছাকাছি উচ্চারণে আলাদা বর্ণ আছে সেগুলো মনে রাখাও কঠিন লাগত। যেমন ধরুন, স শ ষ। আর কঠিন কঠিন যুক্তবর্ণ তো আছেই, শেখার কোনো শেষ নেই। আমি এখন বাংলায় কিছু কিছু কথা বলতে পারি, কিন্তু রিডিং পড়া এবং লেখা কঠিন মনে হয় এখনো। তবে আমি বাংলা বই এবং কবিতা পড়তে চাই, তাই যথাসাধ্য চেষ্টা করব পড়া এবং লেখার জন্য। আমি আমার শিক্ষকদের প্রতি বরাবরই কৃতজ্ঞ। তাঁরা কখনো ভালোবেসে যত্নের সাথে, আবার কখনো একটু কঠোর হয়ে আমাকে শিখিয়ে যাচ্ছেন।’
বাংলা ভাষা শেখার উদ্দেশ্য নিয়ে তমাকো বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ এবং এ দেশের মানুষদের সম্পর্কে শিখছি, সেই সাথে এর ইতিহাস এবং সংস্কৃতি নিয়েও জানার জন্য চেষ্টা করছি। আগে আমি ভাষার কিছু বুঝতে পারতাম না, তাই মাঝে মাঝে মানুষের কণ্ঠ শুনেই ভয় পেতাম। কিন্তু আস্তে আস্তে যখন ভাষা বুঝতে শুরু করলাম, তখনই আমি এ দেশের মানুষের ভালোবাসা, অনুগ্রহ অনুভব করতে শুরু করি। আমার হৃদয়কে তা উষ্ণ করে তুলেছে। আমি বুঝতে পারি বাংলাদেশের মানুষ সুন্দর প্রকৃতি ভালোবাসেন এবং উপভোগ করেছেন। তারা গান এবং নাচের মাধ্যমে আনন্দ অনুগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আমি দেখি তাদের জীবনযাপন। আমি শুনতে পাই রিকশা আসা-যাওয়ার শব্দ এবং অনুধাবন করি এ উদ্যমী চালকদের অসাধারণ জীবনযাত্রা।’