বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, যত তাড়াতাড়ি গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে যাওয়া যায়, তত তাড়াতাড়ি দেশের অস্থিরতা কেটে যাবে। অর্থনৈতিক স্থবিরতা, বাজার-সরবরাহ পরিস্থিতি সব কিছু স্বাভাবিক হবে। তিনি বলেন, স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ছাড়া বিনিয়োগ বাড়বে না। সার্বিক দিক বিবেচনা করে আমরা আগামী ৫ আগস্ট জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণের প্রস্তাব রেখেছি। সরকার আন্তরিক হলে ঐতিহাসিক এই দিনটিতেই নির্বাচন করা সম্ভব। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্বাচনমুখী যে সব সংস্কার প্রয়োজন অগ্রাধিকারভিত্তিতে তা বাস্তবায়ন করাটাই হচ্ছে প্রধান কাজ। মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি অন্যান্য যে সময়সাপেক্ষ সংস্কারগুলো নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার সেগুলো করবে। কিছু কিছু সংস্কারের জন্য হয়তো পাঁচ-দশ বছরও সময় লাগতে পারে। এগুলোর জন্য জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি করলেই হয়ে যাবে। সব সংস্কার সম্পন্ন করে নির্বাচন দিতে গেলে বহু বছর লেগে যাবে। এত দিন তো দেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন এ বিএনপি নেতা।
তিনি বলেন, ভোটার তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলমান। মার্চের ২ তারিখে এটি সম্পন্ন হবে। ২২ জুলাই ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। সেই ভোটার তালিকা আগামী বছর নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। কিন্তু বর্তমান বছরের নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা তো প্রস্তুত হয়ে গেছে। যারা আগামী বছর ভোটার হবে তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বর্তমান বছরে যেটা হচ্ছে সেটি চলমান। বিএনপির এই নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশনের আইনের সংস্কার অথবা পরিবর্তন সেগুলো অধ্যাদেশের মাধ্যমে করা যাবে। সব কিছু বিবেচনা করে আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে বলেছি, জুলাই-আগস্টের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব। এর মধ্যে ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের দিন এবং জাতির জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। এই দিবসটিকে আমরা স্মরণীয় করে রাখতে চাই। সরকার যদি এই তারিখকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যায় সেখানে আমাদের সার্বিক সহযোগিতা থাকবে। আমরা মনে করছি, এই তারিখে নির্বাচন করা সম্ভব।
সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, আমরা চাই বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে আইনের অধিকার ও মানবাধিকার সমুন্নত থাকবে। মানুষের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার আমরা পুনরুদ্ধার করব।