বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অফিস-আদালতে যারা ঘুষবাণিজ্য করেন, আবার মামলাবাণিজ্যও অনেকে করেন। তাদের কাছে আমাদের আন্তরিক অনুরোধ, এ কাজ করবেন না। আমাদের শহীদদের আত্মা কষ্ট পাবে। আমাদের জীবন্ত লাখো কোটি সন্তান, যারা শহীদ হওয়ার নিয়তে ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় নেমেছিল, তারা অন্তরে বড় কষ্ট পাবে। তাদের কষ্ট দেবেন না। যদি আমাদের বিনয়ী অনুরোধ না মানেন, মনে রাখতে হবে যুদ্ধ আমাদের শেষ হয়নি। এ লড়াই চলবে। যতক্ষণ না ইনসাফ কায়েম হয়। আমরা মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত দেশ গড়তে চাই। রাজশাহীর মাদরাসা মাঠে গতকাল দুপুরে জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মিসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা কেরামত আলী। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ দেশ অনেকে শাসন করেছেন। আগামীতে আল্লাহ যাদের চাইবে, তারা জাতির খেদমতের দায়িত্ব পালন করবেন। আমাদের সন্তানরা এত রক্ত কেন দিল? জীবন কেন দিল, পঙ্গু কেন হলো? তারা চেয়েছে সমাজ থেকে সব ধরনের দুঃশাসন এবং দুর্নীতির কবর রচনা হোক। রাজশাহীকে এডুকেশন ভিলেজ বলা হয়। শিক্ষার গ্রাম। আশা করি, ৫ তারিখের (আগস্ট) পর রাজশাহীতে কোনো চাঁদাবাজি হয়নি। কোনো চাঁদাবাজি হয় না? এখানকার মানুষ ভদ্র, বিনয়ী, সৎ। কেউ চাঁদাবাজি করে না, তাই না? এখানেও চাঁদাবাজি হয়? এখানেও ফুটপাত দখল হয়? হাটবাজার-বালুমহাল, জলমহাল, বিভিন্ন যানবাহনের স্ট্যান্ডে দখলদারি হয়? তাহলে আমাদের শহীদদের রক্তের প্রতি এটা কি ভালোবাসা? এটা কি সম্মান? এ কাজ যারা করেন, বিনয়ের সঙ্গে তাদের অনুরোধ করি- এ কাজ ছেড়ে দেন। শহীদদের আত্মা কষ্ট পাবে। মানবতা অপমানিত হবে, লাঞ্ছিত হবে। বন্ধু, ভাই- এ কাজটা ছেড়ে দেন। এ কাজ আর করবেন না।
তিনি বলেন, ইজ্জত দেওয়ার মালিক আল্লাহ, ইজ্জত কেড়ে নেওয়ার মালিকও আল্লাহ। আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা কর। মানুষের প্রতি সম্মান দেখাও, এহসান কর। যারা মানুষকে সম্মান করবে, আল্লাহ তাদের ইজ্জত বাড়িয়ে দেবেন। যারা সমাজে জুলুম এবং অবিচারের প্রচলন করবে, মানুষকে বেইজ্জত করবে বিশেষ করে সম্মানিত মানুষদের যারা অসম্মান করবে, আল্লাহ তাদের সম্মান এবং রাজত্ব দুটোই কেড়ে নেবেন। আল্লাহ বলছেন, ক্ষমতা আমি দিই, ক্ষমতা আমি কেড়েও নিই। ইজ্জত আমি দিই, ইজ্জত আমি কেড়েও নিই। তিনি বলেন, আমাদের নেতৃবৃন্দকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে। বাকিদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এতে আমরা ব্যথিত নই। আমরা আল্লাহর দরবারে শোকর গুজার করি। তিনি আরও বলেন, আমরা কেন বললাম যে, সমস্ত ক্ষমতার মালিক একমাত্র আল্লাহ তাওয়ালা। বিগত সরকার এই অপরাধে নির্বাচন কমিশন থেকে আমাদের নিবন্ধন কেড়ে নিয়েছে। তারা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব মানে না। তারা মনে করেছিল নিজেই সার্বভৌম। সার্বভৌম মানে সর্বময় ক্ষমতার মালিক। এত ক্ষমতার মালিক, তো দেশ ছেড়ে পালালেন কেন?