পুনরুজ্জীবনের পর জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ওপর দ্বিতীয় দিনের মতো শুনানি শেষ হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চে গতকাল শুনানি শেষে পরবর্তী শুনানির জন্য ২১ জানুয়ারি দিন ধার্য রাখা হয়েছে। আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম। ৩ ডিসেম্বর আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর আপিল মামলাটি খারিজ (আইনজীবী হাজির না থাকায়) করে দেন আদালত। এরপর আপিলটি পুনরুজ্জীবনের জন্য আবেদন করা হয়। গত ২২ অক্টোবর আদালত বিলম্ব মার্জনা করে আপিলটি শুনানির জন্য রিস্টোর করেছেন। অর্থাৎ পুনরুজ্জীবন করেছেন।
২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীকে সাময়িক নিবন্ধন দেওয়া হয়। পরের বছর বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, জাকের পার্টির তৎকালীন মহাসচিব মুন্সি আবদুল লতিফ, সম্মিলিত ইসলামী জোটের প্রেসিডেন্ট মাওলানা জিয়াউল হাসানসহ ২৫ জন জামায়াতের নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন। রিটে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের আর্জি জানান তাঁরা।
২০১৩ সালের ১ আগস্ট বৃহত্তর হাই কোর্ট বেঞ্চ জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে রায় দেন। এ রায়ের স্থগিতাদেশ চেয়ে জামায়াতের করা আবেদন একই বছরের ৫ আগস্ট খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ওই বছরের ২ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে জামায়াতে ইসলামী আপিল করে। ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর জামায়াতের আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।
জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা কোটা প্রথা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনে গণহত্যা চালানোয় ছাত্র-জনতা সরকারের পদত্যাগ দাবি করে। ১ আগস্ট অঙ্গসংগঠনসহ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ সরকার। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হাসিনা সরকারের পতন হলে জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধের আবেদন বাতিলের উদ্যোগ নেয়। ২৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার আগের নিষিদ্ধের আদেশ বাতিল করে। এরপর আপিল বিভাগে নিবন্ধন মামলাটি পুনরায় শুনানির জন্য আবেদন করে জামায়াত।