বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন, আমরা অতিদ্রুত নির্বাচন চাই। আপনারা যে সংস্কারের কথা বলছেন, শেখ হাসিনার পলায়নের মাধ্যমে ৮০ ভাগ সংস্কার হয়ে গেছে। এখন প্রয়োজন শুধু নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার।
নির্বাচন দিতে যত দেরি হবে, শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্র তত বৃদ্ধি পাবে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কর্তৃক ‘৭১-এর মুক্তিযুদ্ধই জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অহংকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের পরিচালনায় সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আবদুস সালামসহ মুক্তিযোদ্ধা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আগামী নির্বাচনের কথা বললেই অনেক উপদেষ্টার মুখ কালো হয়ে যায়। আমরা নির্বাচনের কথা বললে তারা অসন্তুষ্ট হয়ে যান। জনগণ ভোট দেবে এটা তাদের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আজকে জনগণকে এত কেন ভয়? জনগণ ভোট দেবে এটা আপনাদের আতঙ্কের কারণ কেন হয়েছে? এসব এলিটজম ছাড়েন। আমরা চাই জনগণের মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।
সংস্কারের নামে আর বেশি সময় নেবেন না। হাসিনা পলায়ন করেছে, এখন যে সংস্কার বাকি আছে সেগুলো জনগণ করবে। এখন শুধু অপরাধীদের শাস্তির বিধান করুন। আহত-নিহতদের পরিবারের প্রতি লক্ষ্য রাখুন।
মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি এ দেশে একটি কিংস পার্টি গঠন হতে যাচ্ছে। কিংস পার্টির ভবিষ্যৎ আগেও ভালো ছিল না, ভবিষ্যতেও ভালো হবে না। জুলাই-আগস্টে যে ছাত্র নেতারা আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন তাদের সেই সংগ্রামের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। তাদেরকে আবারও অভিনন্দন জানাই। কিন্তু আগামী দিনে আপনারা কোনো কিংস পার্টি করার চেষ্টা করবেন না। নির্বাচনের নামে প্রহসনের ফলে একদল দুর্বৃত্ত ক্ষমতায় বসেছিল। কিংস পার্টির নামে এসব দুর্বৃত্তদের দলে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, ’২৪-এর গণ অভ্যুত্থানকে স্বাধীনতার ওপরে স্থান দেওয়ার প্রচেষ্টা করছে একটি মহল। সবার ওপরে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। চিরকাল এভাবেই থাকবে। আমরা মুক্তিযুদ্ধকে কাউকে কলঙ্কিত করতে দেব না। মুক্তিযুদ্ধ বিভক্ত হবে এটাও আমরা আশা করি না।