আব্বু-আম্মু বাইরে গেছেন। এই তো সুযোগ কার্টুন দেখার। নিশি টিভি ছাড়ল। কার্টুন শুরু হলো। ইঁদুর, বেড়াল, পাখির কার্টুন। নিশি কার্টুন দেখে হাসতে লাগল। হঠাৎ আব্বুর ফোন! নিশি ফোন রিসিভ করতেই আব্বু বললেন, কী করছো মামণি? তুমি ঠিক আছ? ভয় পাচ্ছ না তো? নিশি টিভির সাউন্ড কমিয়ে বলল, আব্বু, আমি ঠিক আছি। ভয় পাচ্ছি না। তোমরা কখন ফিরবে? আব্বু বললেন, একটু পরই ফিরব। আব্বুর কাছ থেকে ফোন নিয়ে আম্মু জিজ্ঞেস করলেন, নিশি, আবার কার্টুন দেখছ না তো? নিশি মিথ্যে বলতে পারে না। তাই ফিক করে হেসে বলল, হ্যাঁ, আম্মু, কার্টুন দেখছি। আম্মু ফোনের ওপ্রান্ত থেকে গম্ভীর স্বরে বললেন, ঠিক আছে। বেশিক্ষণ দেখ না। আম্মু ফোন রেখে দিতেই নিশি হাঁপ ছেড়ে বাঁচল। কিন্তু এ কী! কার্টুনের চ্যানেল কোথায় গেল? এখানে কাগজ দিয়ে নানা রকম খেলনা বানানো হচ্ছে।
নিশি চ্যানেল ঘুরিয়ে দিল। কিন্তু এক মিনিট না যেতেই খেলনা বানানোর চ্যানেল শুরু হলো। নিশি ভয়ে কাঁপতে থাকল। খেলনা বানানো দেখতে দেখতে নিশি চ্যানেলের ভিতর হারিয়ে গেল। নিশি দেখল, একটি ছোট্ট মেয়ে কাগজ দিয়ে পুতুল বানাচ্ছে। নিশি বলল, রঙিন কাগজ দিয়ে পুতুল বানানো কাজটা তো বেশ মজার! আমিও চেষ্টা করে দেখি। নিশি কাগজ দিয়ে টিভিতে দেখানো পুতুলটাই বানাল। পুতুলটা দেখে নিশি বলল, তুমি খুব সুন্দর! পুতুলটা হঠাৎ বলে উঠল, তুমিও সুন্দর! নিশি ভয়ে কাগজের পুতুল ছুড়ে ফেলল। কাগজের পুতুল ব্যথা পেয়ে বলল, আমাকে ব্যথা দিও না। ভয় পেও না। আমি পুতুল ভূত। তোমার কার্টুনের চ্যানেল আমিই ঘুরিয়ে দিচ্ছিলাম। কারণ আমি চাই না তুমি কার্টুন দেখে সময় নষ্ট কর। আমি চেয়েছিলাম তুমি অবসর সময় আনন্দদায়ক কিছু শেখ। নিশি বলল, আমি খেলনা বানিয়ে আনন্দ পেয়েছি। কিন্তু তুমি আমাকে বিষয়টা জানালেই পারতে। আমি অনেক ভয় পেয়েছি। পুতুল ভূত বলল, আগে জানালে তুমি আমাকে বানানো শিখতে না। এই বলে পুতুল ভূত হাসতে লাগল।
ঠিক তখনই কলিংবেল বেজে উঠল। নিশি দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলল। আব্বু-আম্মু এসেছেন। আম্মু নিশির চেহারার দিকে তাকিয়ে বললেন, নিশি, তোমাকে এমন লাগছে কেন? আব্বু বললেন, মামণি, কি হয়েছে? নিশি ঢোক গিলল। তারপর বলল, কিছু হয়নি আমার। আব্বু-আম্মু ঘরে ঢুকেই দেখলেন, নিশি রঙিন কাগজ দিয়ে পুতুল বানিয়েছে। আব্বু বললেন, খুব সুন্দর হয়েছে মামণি। আম্মু বললেন, এই প্রথম তোমাকে কিছু বানাতে দেখলাম। আব্বু-আম্মুর প্রশংসা পেয়ে নিশি উৎসাহিত হলো। নিশি পুতুল ভূতের দিকে তাকাল। পুতুল ভূত তখনো হাসছে। সেই হাসি শুধু নিশিই দেখতে পাচ্ছে।