ভাষার মাসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন ও ভাষার শুদ্ধতা রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে কিশোর নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ। তাদের একটি দল ভোলার চরফ্যাশনে বিভিন্ন বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরে ঘুরে ঘুরে নামফলক, সাইনবোর্ড ও ব্যানারে থাকা কিছু ভুল বানানের তথ্য সংগ্রহ করে। পরে সংশোধনী কমিটি যাচাই-বাছাই করে ভুল বানানগুলো আলাদা করে।
একুশে ফেব্রুয়ারিতে প্রভাতফেরি ও শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর পরই পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ভুল বানানের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে র্যালি বের করেন তারা। তাদের এই উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সঠিক বানানে সংশোধন করার জন্য অনুরোধ করা হয়। প্রতিষ্ঠানসমূহও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
এছাড়াও সরকারি নির্দেশনা থাকলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামফলক, ব্যানারে শুধুমাত্র ইংরেজি শব্দে নাম দেখা গিয়েছে। যেখানে হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন (১৬৯৬/২০১৪) এর রায়ের ভিত্তিতে বলা হয়েছে যে সকল প্রতিষ্ঠানের (কিছু ব্যতীত) নামফলক, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড ও ব্যানারে বাংলায় লেখা বাধ্যতামূলক।
এ ব্যাপারে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাসনা শারমিন মিথি বলেন, ভাষার সঠিক চর্চা ও শুদ্ধ বানান রক্ষায় কিশোর নেটওয়ার্কের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সরকার থেকেই নির্দেশ দেয়া আছে যাতে প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যবহার হয় সব জায়গায়। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগকে সর্বাত্মক সহায়তা করব।
আয়োজকরা জানায়, ভাষার শুদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য এই উদ্যোগ শুধু ভাষার মাসেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি পুরো বছরের জন্য একটি চলমান প্রচেষ্টা। কিশোর নেটওয়ার্কের সদস্যরা বিশেষ করে ব্যানার ও সাইনবোর্ড প্রিন্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করবে, যাতে তারা সর্বত্র শুদ্ধ বাংলা ব্যবহারের দিকে মনোযোগ দেয়।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল