টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত এক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করলেন তাহুরা সুলতানা। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্টে এসে ভ্রমণ শেষ করেন।গত বছরের ২৯ নভেম্বর সকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের জিরো পয়েন্ট থেকে যাত্রা শুরু করেন তিনি। ৫১ দিনে ১ হাজার কিলোমিটার পথ পারি দিয়েছেন পায়ে হেঁটে। একা হাঁটলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে পথে পথে তাকে সঙ্গ দিয়েছেন পরিচিত অপরিচিত অনেকেই।
তাহুরা চট্টগ্রামের বাঁশখালী গন্ডামারা ইউনিয়নের রশিদ আহমেদ ও তৈয়বা খাতুন দম্পতির মেয়ে। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট। চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন।
তাহুরা সুলতানা জানান, পরিবারে আমিই সবার ছোট। শৈশব থেকেই পছন্দ ঘোরাঘুরি করার। যেকোন চ্যালেঞ্জিং বিষয় নিতে ভালো লাগে। সে হিসেবেই হেঁটে দেশভ্রমণ করার সিদ্ধান্ত নিই। দীর্ঘ এ ভ্রমণে যেখানে বিরতি নিয়েছি সেখানে মানুষের ভালোবাসা ও স্বতঃস্ফূর্ত সাড়ায় আমি অভিভূত।
তাহুরা বলেন, সুস্বাস্থ্যের জন্য হাঁটা জরুরি। তাই এই পদযাত্রার মাধ্যমে মানুষও যাতে হাঁটায় উদ্বুদ্ধ হয়, সেটি আমি চাই। একই সাথে দেশের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি মানুষকে হাঁটায় উদ্বুদ্ধ করতেই আমার এই ভ্রমণ। দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে এ জার্নির খরচ আমার নিজেরই। বিশেষ করে জুম ওয়াইল্ড নামে ট্রাভেল এজেন্সি সাথে ট্রাভেলিং এর প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী নিয়ে দোকান আছে। সেখান থেকে অর্জিত টাকা জমিয়ে আমি এ জার্নি করেছি।
তাহুরা বলেন, সাগর থেকে হিমালয় নামের প্রকল্পের অংশ হিসেবে ক্রস কান্ট্রি হাইকিংয়ের তিনটি পর্ব ছিল। এর মধ্যে ২৯ নভেম্বর টেকনাফ থেকে শুরু করে হেঁটে যমুনার পাড়ে আসা হয়। যমুনা সেতুতে হাঁটার অনুমতি না পেয়ে ১৬ ডিসেম্বর সাঁতরে যমুনা নদী পার হই। সেখান থেকে প্রথম পর্ব শেষ করে বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো নারী অভিযাত্রী দলের সদস্য হিসেবে শীতকালীন হিমালয় অভিযানে নেপালে চলে যাই। সেখানে ২৫ দিন থেকে আবারও বাংলাদেশে ফিরে আসি। সেটি ছিল এ অভিযানেরই দ্বিতীয় পর্ব। এরপর তৃতীয় পর্বে গত ১৮ জানুয়ারি যমুনার পাড় থেকে আবারও হাঁটা শুরু করি। সর্বশেষ শুক্রবার সন্ধ্যায় হেঁটে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে পৌঁছাই।
তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্টে পৌছে ভ্রমণ শেষ করার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তাহুরা বলেন, তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্টে এসে ১ হাজার কিলোমিটার মাইলফলক শেষ হলো।
তাহুরা বলেন, আমার এ জার্নির সাথে এই মুহুর্তে ও সাথে ছিল সবার প্রতি আমি খুবই কৃতজ্ঞ ও ভালবাসা সবাইকে। আর আমার পুরো জার্নিতে পুরো বাংলাদেশের ১ হাজার কিলোমিটার হাইকিং, সাথে যমুনা নদী সাঁতরানো, সাথে হিমালয়ের তিনটা পাহাড়ের যে অর্জনগুলো ছিল এই জায়গায় শেষ হলো। জার্নিটা শেষ করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে রাব্বি বলেন, তাহুরা সুলতানার পদযাত্রা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার। তাকে দেখে তরুণ প্রজন্ম সুস্বাস্থ্যের জন্য হাঁটতে উদ্বুদ্ধ হবেন বলে আশা করি। এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে পৃষ্ঠপোষকতা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
বিডি প্রতিদিন/এএ