৭৫তম সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ঋণ বিতরণ করেছে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা মিলনায়তনে বসুন্ধরা গ্রুপের অর্থায়নে এই ঋণ বিতরণ করা হয়।
বুধবার এই ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম নাসিমুল হাই এফসিএস, ডিজিএম মাইমূন কবির, বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. চাঁন মিয়া সরকার, বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক মো. মোশাররফ হোসেন, সিনিয়র অফিসার আমির হোসেন আনোয়ার, জুনিয়র অফিসার শাহজাহান, আল মামুন, মোহাম্মদ বাছির প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ঋণ বিতরণের পূর্বে এম নাসিমুল হাই এফসিএস বলেন, হতদরিদ্র মানুষকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করার জন্য সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ঋণ বিতরণ চালু করে বসুন্ধরা গ্রুপ। অসহায় অস্বচ্ছল মানুষরা যেন নিজ পায়ে দাঁড়াতে পারে সেই লক্ষ্যে ২০০৫ সালে এই প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান মহোদয়। প্রকল্প শুরু হওয়ার পর থেকেই বসুন্ধরা গ্রুপ ধারাবাহিকভাবে মানুষের কল্যাণে এই ঋণ বিতরণ করে যাচ্ছে। নদী এলাকা বাঞ্ছারামপুরের মানুষগুলো ঋণ গ্রহণ করে যেভাবে বিনিয়োগ করছে, তাতে বেশি দিন আর অস্বচ্ছল থাকবেন না তারা। তাদের স্বচ্ছল করে তোলাই বসুন্ধরা গ্রুপের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
তিনি জানান, বুধবার ৪৪৩ জন উপকারভোগীর মাঝে ৮০ লক্ষ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে প্রথমবারে ১১৩ জনকে ১৫ হাজার টাকা করে ১৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয়বারে ৬৯ জনকে ১৫ হাজার টাকা করে ৮ লাখ ৮৫ হাজার এবং তৃতীয়বারে ২৭১ জনকে ২০ হাজার টাকা করে ৫৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ প্রদান করা হয়। এই ঋণ শুধুমাত্র মহিলাদের মাঝে বিতরণ করা হয় যা দিয়ে হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগল এবং শাক-সবজি চাষসহ ৩২ প্রকার কাজে মহিলারা এই ঋণের অর্থ বিনিয়োগ করে খুবই উপকার পাচ্ছে। এই ঋণের পরিধি প্রথম দিকে শুধু বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে তা পাশ্ববর্তী উপজেলা হোমনা ও নবীনগরে বিস্তার লাভ করেছে।
মধ্যনগর গ্রামের সাহিদা (২৯) বলেন, ‘আমি আমার স্বামীর পাশাপাশি নিজেও কিছু কাজ করমু। বসুন্ধরার টেহা নিয়া হাঁস-মুরগি পাইল্লা অনেক লাভ হইছে, এইবারও অইবো। এখন খাওয়া দাওয়ার কোন সমস্যা নাই। আল্লাহ'র কাছে দোয়া করি বসুন্ধরার মালিকরা যেন ভালো থাকে।’
আসাদনগর গ্রামের বিলকিস বেগম (৪০) বলেন, ‘টেহা নিয়া কৃষি কাজ করব। খাওনের অভাব থাকবে না। আল্লাহর কাছে বসুন্ধরার হগলের লাগি দোয়া করি।’
বাঞ্ছারামপুর গ্রামের মাকসুদা খাতুন (৩২) বলেন, ‘প্রথম ও দ্বিতীয়বার ঋণ নিয়ে হাঁস মুরগি লালন পালন কইরা অনেক লাভবান হইছি। প্রথমে তো ঠিক মতো খাবার খাইতে পারিনাই। এখন আল্লাহর রহমতে খাবারের চিন্তা নাই।’
বিডি প্রতিদিন/হিমেল