পঞ্চগড়ে আটোয়ারী-বোদা কিসমত রেলস্টেশনে দ্রুতযান একপ্রেস চালুর দাবিতে অবরোধ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। শনিবার সকাল থেকে স্থানীয়দের অবরোধের দুই ঘণ্টা পর প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বোদা ও উপজেলার একমাত্র রেলস্টেশন কিসমত রেলওয়ে স্টেশন। এ স্টেশনে দ্রুতযান একপ্রেসটি দীর্ঘদিন ধরে বিরতি ছিল। আগামীকাল রবিবার থেকে এ স্টেশন থেকে ট্রেনটি প্রত্যাহার করার কথা থাকায় এলাকাবাসী স্টেশনটিতে অবরোধ করে।
স্থানীয় আবু হাসান জানান, এ স্টেশনটিতে ঢাকা ও রাজশাহী থেকে যাত্রী যাওয়া আসা করে। তাই দ্রুতযান এক্সপ্রেসটি প্রত্যাহার নয়, যেন নিয়মিত চালু রাখা হয়, সে দাবিতে এলাকাবাসী অবরোধ করেছে। অবরোধের খবর শুনে ইউএনও স্যার ও পুলিশ এসে অবরোধকারীদের সাথে কথা বলেন। তাদের দাবির কথা শোনেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে কথা বলবেন এমন আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
কিসমত রেলস্টেশন মাস্টার বজলুর রহমান জানান, এ স্টেশনে দ্রুতযান এক্সপ্রেসটির বিরতি ছিল। এটা দুই মিনিট বিরতি ছিল। এটা সরকার প্রত্যাহার করায় স্থানীয়রা সকালে যাত্রাবিরতির দাবিতে রেলস্টেশন অবরোধ করে। পরে ইউএনওসহ পুলিশ এসে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে স্থানীয়রা অবরোধ তুলে নেয়। বিশেষ করে এ ট্রেনটির টিকিট খুবই কম বিক্রি হচ্ছে এ স্টেশনে।
কিসমত রেলওয়ে স্টেশন সম্পর্কে জানা যায়, আটোয়ারী ও বোদা এই দুই উপজেলার একমাত্র এই রেলওয়ে স্টেশন। কিসমত রেলওয়ে স্টেশনটি পার্বতীপুর-পঞ্চগড় রেললাইনের পঞ্চগড়-রুহিয়া অংশে অবস্থিত। ১৯৬৭ সালে এ রেললাইনটি পাকিস্তান আমলে তৈরি করা হয়। ২০১৪ সালে সরকার ৯৮২ কোটি টাকা ব্যয় করে পার্বতীপুর থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত ডুয়েল গেজ লাইন ও কিছু স্টেশন নতুনভাবে নির্মাণ করে। এসময় কিসমত রেলওয়ে স্টেশনে নতুন ভবন ও পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক পৃথক বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হয়। স্টেশনটিতে দ্রুতযান এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস, বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস, দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস, উত্তরবঙ্গ মেইল, পঞ্চগড় কমিউটার, কাঞ্চন কমিউটার ও লোকাল ট্রেন চলাচল করছে। দুই উপজেলার একমাত্র রেলওয়ে স্টেশন হওয়ার কারণে দুই উপজেলার মানুষের কাছে জনপ্রিয়।
আটোয়ারি নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাফিউল মাজলুবিন রহমান বলেন, সকালে কিসমত রেলওয়ে স্টেশনে অবরোধের তথ্য জেনে সেখানে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলেছি। তাদের যে বক্তব্য, তা প্রতিবাদ লিপি আকারে আমাকে দিতে বলেছি। এটা পেলে ডিসি স্যারের কাছে দেব। ডিসি স্যার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করবেন। আসলে তাদের দাবি ছিল এ রেলস্টেশনে যে দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনটি বন্ধ ছিল, সেটা যেন পুনরায় চালু করা হয়। আর সার্বক্ষণিক যেন স্টেশনটি খোলা রাখা হয়। এমন দাবিতেই স্থানীয়রা অবরোধ করছিলেন।
বিডি প্রতিদিন/এমআই