দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করা আর দখলে-দূষণে স্থানীয়দের জন্য বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ফেনী শহরের ঐতিহ্যবাহী পাগলিছড়া খাল। খালটি দখল করে এর ওপর বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছেন প্রভাবশালীরা।
এ ছাড়া পলিথিন, গৃহস্থালি পণ্য আর ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে অস্তিত্ব সংকটে ফেনী পৌরসভার ৩টি ওয়ার্ডের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ এই পাগলিছড়া খাল। এই খালের অস্তিত্ব এখন প্রায় বিলীন। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফেনী শহরের হাজার হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ ও ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফেনী শহরের পানি নিষ্কাশনের প্রায় ৬ কিলোমিটার পথের মধ্যে পাগলিরছড়া খাল ছাড়াও দমদমা, ভোলভোলা ও মধুয়্যাই খালেও অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বাড়ি, দোকান-পাট ও মার্কেট।
অপরদিকে, পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পলিথিন বর্জ্যের দূষণে হুমকির মুখে পাগলিরছড়া খালের আশপাশের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফেনী পৌরসভার সবচেয়ে বাণিজ্যিক ও জনগুরুত্বপূর্ণ ১০, ১১, ১২ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ড। এ চারটি ওয়ার্ডের পানি নিষ্কাশন ও জলধারার ভারসাম্য রক্ষার একমাত্র মাধ্যম পাগলিছড়া খাল।
উপজেলা ভূমি অফিসের রেকর্ডমতে খালটি ২০ ফুট প্রস্থ থাকার কথা। এ খালেই নৌকায় করে এক সময়ে ফেনী শহরের বাণিজ্যিক মালামাল বহনের জনশ্রুতি রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে প্রভাবশালীদের দখল আর অপচনশীল পলিথিন বর্জ্যে এটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীনতায় আটকে থাকা পচা পানি আর দুর্গন্ধে খালটি এখন মশা ও পোকামাকড় উৎপাদন কারখানায় রূপ নিয়েছে। নিয়মিত মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় খালটির আশপাশে বসবাস এখন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
ফেনী পৌর প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ইতিমধ্যেই আমরা এটি পরিদর্শন করেছি। শিগগিরই পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে বসে সম্মিলিতভাবে এটি সংস্কারে কাজ করবো। তবে দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের সহায়তা লাগবে। রাজস্ব ঘাটতির কারণে এই মুহূর্তে বিশেষ প্রকল্প নিয়ে কাজ করাতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
ফেনী জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, দ্রুত খালটি জরিপ করে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে সমন্বয় করা হবে। দূষণ রোধে স্থানীয়দের সচেতন বৃদ্ধি করার কথাও জানান তিনি।
বিডি প্রতিদিন/এমআই