দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় দিনাজপুরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের বেহাল দশা। বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে যায়। যানবাহন চলাচল ও যাত্রী ওঠানামায় সমস্যা হয়। এতে হাজার হাজার যাত্রী, শ্রমিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৯৩ সালে দিনাজপুর শহরের মির্জাপুর এলাকায় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। এ টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন আন্তজেলা ও অভ্যন্তরীণ রুটে ৪ শতাধিক বাস চলাচল করে। প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পার হলেও এখনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। টার্মিনাল প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোনো সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে গর্ত হয়েছে। বর্ষায় গর্তে পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ও যাত্রী ওঠানামায় বিঘ্ন ঘটে। যাত্রী বিশ্রামাগারের ছাদ ও দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে। টার্মিনালের বাউন্ডারি দেয়াল নেই। টয়লেট কিংবা বসার ব্যবস্থা নেই।
আবদুর রহিম, ফারুক আহমেদসহ যাত্রীদের অভিযোগ, টার্মিনাল প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোনো সংস্কার হয়নি। এ কারণে বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষার সময় টার্মিনালে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়ে। বর্ষার সময় টার্মিনালে হেঁটে প্রবেশ করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। এ সময় টার্মিনালের চারিদিকে পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে কাদায় একাকার হয়ে যায়। যাত্রী ওঠানামাতেও বিঘ্ন ঘটে। শ্রমিকদের অভিযোগ, টার্মিনালে বসার জায়গা কম, বিশ্রামের কোনো সুব্যবস্থা নেই, টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী। আধুনিক যুগে টার্মিনালটি বেমানান। জরুরিভাবে সংস্কার প্রয়োজন।
দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি বলেন, টার্মিনালটির প্রতিষ্ঠার পর বারবার পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মিনারুল ইসলাম জানান, পৌরসভার আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। মন্ত্রণালয়ের আরইউটিডি প্রকল্পের আওতায় উন্নয়নকাজ করা হবে।