লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়েতে জনবল সংকটে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে ২৭টি রেলস্টেশন। এতে বেড়েছে যাত্রী ভোগান্তি। একই সঙ্গে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। রেল কর্মকর্তারা বলছেন, এসব রেলস্টেশন চালুর জন্য মন্ত্রণালয়ে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, ট্রেন চলছে। আছে রেলস্টেশনও। তবে নেই যাত্রাবিরতি। এ চিত্র লালমনিরহাটের রইছবাগ স্টেশনের। স্টেশন ভবনের অবস্থা জরাজীর্ণ। জনবল না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নেই এখানে কোনো কার্যক্রম। তাই এ রেলপথের কোনো সুবিধা নিতে পারছেন না যাত্রীরা। স্থানীয়রা জানায়, একসময় এ স্টেশন থেকে শত শত যাত্রী লালমনিরহাটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রেনে যাতায়াত করতেন। কিন্তু এখন ট্রেন না থামায় চলাচল করেন অটোরিকশা, বাসসহ বিভিন্ন গণপরিবহনে। শুধু রইছবাগ নয়, এমন বেহাল রেলরুটের লালমনিরহাটের আদিতমারী, ভোটমারী, বাউড়া, পাটগ্রাম, কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট, উলিপুর, ত্রিমোহনী, রমনা বাজার, দিনাজপুর জেলার মন্মথপুর, কাউগাঁ, গাইবান্ধা জেলার নলডাঙ্গা, ঠাকুরগাঁও জেলার ভোমরাদহ, রংপুর জেলার চৌধুরানী, অন্নদানগর, খোলাহাটি বগুড়া ভেলুরপাড়া, আলতাফনগর, মিরবাগসহ ২৭টি স্টেশনের। অনেক স্টেশনে মাঝেমধ্যে ট্রেন থামলেও বিক্রি হয় না টিকিট। ফলে এখান থেকে ট্রেনে চড়লে টিটিইর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এতে যাত্রীদের পক্ষ থেকে অপদস্থ ও ভোগান্তিতে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। স্টেশনগুলোতে ইচ্ছামতো ট্রেন এসে দাঁড়ায়। রইছবাগ স্টেশন এলাকার সাহেব আলী (৫৫) জানান, এ স্টেশনে ট্রেন না থামায় তাদের বাড়তি টাকা দিয়ে অন্য স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে চড়তে হয়। একই এলাকার ছবর উদ্দিন (৬০) জানান, কখনো-সখনো এখানে ট্রেন থামে। তবে টিকিট পাওয়া যায় না। ফলে লালমনিরহাট স্টেশনে গিয়ে নামলে টিটিই ও জিআরপি পুলিশের কাছে অপদস্থ হতে হয়।
বাউড়া স্টেশন এলাকার মানুন জানান, রাতে স্টেশনে কোনো বাতির ব্যবস্থা নেই। এমনকি বিশ্রামাগার, টয়লেটসহ স্টেশন মাস্টারের রুম সব সময় তালাবদ্ধ থাকে। নারী যাত্রীদের জন্য আলাদা টয়লেট না থাকায় প্রতিনিয়ত বিপাকে পড়তে হয়।
নামুড়ি এলাকার আসাদ বলেন, এখানে একসময় ট্রেন থামানো হতো। কিছুদিন থেকে এখানে ট্রেন থামানো হচ্ছে না। এতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে পরিবহন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, রেলওয়ের আওতায় ‘বি’ এবং ‘ডি’ ক্লাস মিলে ৮০টি স্টেশন রয়েছে। তবে স্টেশন মাস্টার, পয়েন্টসম্যান, বুকিং সহকারীসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ জটিলতার কারণে ২ শতাধিক জনবল সংকট রয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে ২৭টি স্টেশনের কার্যক্রম। নতুন জনবল নিয়োগ হলে স্টেশনগুলো আবার চালু হবে।